গত মার্চ থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, মুন্সীবাজার ও শমশেরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ট্রান্সফরমারগুলো চুরি হয়। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের জুনিয়র প্রকৌশলী বিদ্যুৎ রায় ১৪টি ট্রান্সফরমার চুরির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের কুমড়া কাপন গ্রামের বাবুল মিয়া (৩৬), জয়নুল মিয়া (৩৫), রফিক মিয়া (৫০), কাউছার মিয়া (২০) ও ব্রাহ্মণ বাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের আলী আকবরের ছেলে নুরুল ইসলাম (২২) ও শমশেরনগর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম থেকে তাজুদ মিয়া (২৫)। এসময় তাদের কাছ থেকে চুরির মালামাল উদ্ধার করা হয়।
কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কমলগঞ্জ জোনাল অফিস ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২ মে) দিবাগত রাতে মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নারায়ণক্ষেত্র গ্রাম থেকে ১০ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি, রামচন্দ্র পুর গ্রাম থেকে ১৫ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এছাড়া গত দেড় মাসে বিভিন্ন সময়ে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রাম থেকে ১৫ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি, আদমপুর ইউনিয়নের নঈনারপার গ্রাম থেকে ১০ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
এছাড়া ২৮ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে শমশেরনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে ১৫ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি, ভলতপুর গ্রাম থেকে ২৫ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি ও নিত্যানন্দপুর গ্রাম থেকে ১০ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
সূত্রে আরও জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১০টার পর থেকে ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ সুযোগে চোরচক্র মাধবপুর ইউনিয়নের জপলার পার গ্রাম থেকে ১০ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি ও মাধবপুর মাঝের গাঁও গ্রাম থেকে ১৫ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি ও ৫ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নেয়। গত দেড় মাসে সর্বমোট ১৪টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এসব ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় নতুন করে ট্রান্সফরমার স্থাপনের আগ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত ট্রান্সফরমান স্থাপন করতে গিয়ে গ্রামবাসীরা অর্থ সংকটে পড়েছেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান বলেন , ‘এ বিষয়ে জোর তদন্ত চলছে। জড়িতের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
/এআর/