মৌলভীবাজারে কৃষকদের নতুন সমস্যা ধানে চিটা

মৌলভীবাজারে পানিতে ডুবে যাওয়ার পর ধানে চিটাটানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরের পানি বেড়ে ধান হারিয়েছেন মৌলভীবাজারের কৃষকদের বড় একটি অংশ। তবে তুলনামূলক উঁচু জমিতে চাষ করা কৃষকরাও ক্ষতির বাইরে নন। ভেসে থাকা জমির ধান কেটেও চাল পাচ্ছেন না তারা। ধানের মধ্যে কোথাও অর্ধেক আবার কোথাও আরও বেশি চিটা পাওয়ার অভিযোগ তাদের।

এদিকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন থেকে বীজ নিয়েও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বীজ থেকে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়নি বলে দাবি করছেন কৃষকরা।

তবে কৃষি অধিদফতর জানিয়েছে, এবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ধান চিটা হয়ে যাওয়ার এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আর প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন না পাওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেননি।মৌলভীবাজারে পানিতে ডুবে যাওয়ার পর ধানে চিটা

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়ন, রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওর, কুলাউড়া উপজেলার হাকালুকি হাওর, শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরসহ কমলগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, গত বছর প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ মন ধান পেয়েছেন। এবার সেখানে পাচ্ছেন জমিভেদে ৫ থেকে ৮ মন। জমি চাষ, সার, বীজ, হালিচারা ও সবশেষে কামলা খরচ দিয়ে এক বিঘা জমিতে ৪ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। কিন্তু বিঘা প্রতি ৬ মন ধান পেলেও মূলধনই উঠছে না।

তারা আরও জানিয়েছেন, ‘ধানতো গেছেই, বাজারে চালের দামও অসহনীয়। এক কেজি চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় কিনতে হচ্ছে। রোজ কামলা করেও বাজারে গিয়ে চাল কেনা যাচ্ছে না।’

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাওয়াদিঘি হাওরের আখাইলকুড়া ইউনিয়নের পাগুড়িয়া গ্রামের আক্কাছ মিয়া (২৫) জানান, ‘প্রতি বিঘা জমি চাষ করতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। এরপর ধান কাটতে কামলা খরচ দিয়ে বিঘা প্রতি হাজার টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে খরচের বিপরীতে পাওনা ধানে পোষায় না।’ একই গ্রামের জব্বার মিয়া (৫৫) বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন থেকে বীজ নিয়ে রোপন করার পরও ফলন পাওয়া যায়নি। উন্নতমানের বীজ রোপন করেও আমরা ক্ষতির সম্মুখীন।’মৌলভীবাজারে পানিতে ডুবে যাওয়ার পর ধানে চিটা

হাকালুকি, হাইল হাওর, কাইঞ্জার হাওর, বড় হাওরসহ উঁচু ও নিচু গ্রামগুলোর ধান ক্ষেতে এখন চিটা সমস্যা প্রকট বলে জানিয়েছেন তারা। ধানে চিটা থাকায় এগুলো এখন খড়, জ্বালানি ও গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে রাস্তার পাশে ও মাঠে শুকিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এবার জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৫০ হাজার ৪৬৪ হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছিলো তার চেয়ে বেশি ৫৩ হাজার ৪২৬ হেক্টর জমিতে। তবে হাওর ও উঁচু জমি মিলিয়ে দুই দফা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমি। এর মধ্যে পুরো নষ্ট হয়েছে ১০ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমির ধান। এ হিসেবে ফলনকৃত এবং রক্ষা পাওয়া ধান ৪২ হাজার ৯২৬ হেক্টর।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সফর উদ্দিন জানান, ‘এবার বন্যা, অতি বৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক কারণে ধানে বেশি চিটা হবে।’

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন থেকে বীজ নিয়েও চাষ করে কৃষকরা চিটার কবলে পড়েছেন- এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ধানের চিটা নিয়ে কোন জরিপ আমরা করিনি বা কেউ অভিযোগও করেনি।’ যারা চিটাযুক্ত ধান পাচ্ছেন তাদের কোনও ধরনের সহায়তার বিষয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।

/এফএস/ 

আরও পড়ুন- 

মাগুরায় ঝুঁকি নিয়েই পরিত্যক্ত ভবনে চলছে পাঠদান
‘ঈদের খুশির চেয়েও বেশি কিছু পেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে’