কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কয়েক দফা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বন্যায় জেলার প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বানিয়াচং উপজেলা। এ উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহযোগিতা, ভিজিএফ এর চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা তা পাননি।
বানিয়াচং উপজেলার খাগাপাশা ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষকদের এখনও হাওরে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া পচা ধান কাটতে দেখা গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ে কোনও মাথাব্যাথা নেই ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এরশাদ আলীর- এমন দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। এই ইউনিয়নের কোনও কৃষক ভিজিএফ-এর চাল পায়নি। এছাড়া মুরাদপুর, মন্দরীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকরা এখনও সরকারি সহযোগিতা পাননি।
একই গ্রামের সুগেরা বানু বলেন, ‘শুনছি প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বরাদ্দ দিছে কিন্তু আমাগো কপালে ত্রাণ জুটছে না।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান এরশাদ আলী শুধু আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে চাল বিতরণ করেন। কোনও সাধারণ মানুষের খোঁজ খবর রাখেন না।
একই গ্রামের মহিবুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকায় যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেই তুলনায় কৃষকরা কিছুই পায়নি। শুধুমাত্র আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
খাগাপাশা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার সায়েদ আলী জানান, বৃহস্পতিবর দুপুর পর্যন্ত তার ইউনিয়নে সরকারি ভিজিএফ’র চাল আসেনি। বরাদ্দ আসলে তিনি বিতরণ করবেন বলে জানান।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ আলী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে চাল বিতরণ করবেন।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহ বলেন, অধিকাংশ ইউনিয়নে ভিজিএফ বিতরণ করা হয়েছে। তবে ভৌগলিক কারণে কয়েকটি ইউনিয়নে এখনও বিতরণ করা যায়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই চাল বিতরণ করা হবে।
/বিএল/