কীটনাশক প্রয়োগের নীতিমালা মানছেন না চা বাগান মালিকরা

চা বাগানে কীটনাশক প্রয়োগে নিয়ম মানা হচ্ছে নামৌলভীবাজার জেলায় ডানকান ব্রাদার্স, জেমস ফিনলে টি কোম্পানি, ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) ও ব্যক্তি মালিকানায় প্রায় ৯৩টি চা বাগান রয়েছে। চা গাছের রোগব্যাধি, পোকামাকড় ও ঘাস মারার জন্য অবাধে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিকর এসব কীটনাশক ব্যবহারে নিয়ম মানছেন না চা বাগান মালিকরা।

জানা গেছে, কীটনাশক প্রয়োগের পর কমপক্ষে দশদিন পর্যন্ত এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। যদিও দ্রুত কচি পাতা গজানোর কারণে নিয়ম না মেনেই বাগানে কীটনাশক ব্যবহারের দুই-একদিনের মধ্যেই কচি পাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। এরপর বাজারজাতকৃত এসব চায়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করছে সেই বিষ।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মূখ্য ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উত্তোলিত ও প্যাকেটজাত চা বিভিন্ন সময়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা ও গবেষণা হয়েছে। অ্যানালাইসিস করে যতদূর সম্ভব দেখেছি কিছু কিছু ক্ষেত্রে কীটনাশকের সামান্য উপস্থিতি পাওয়া যায়। তবে তাতে মানব দেহের ওপর ক্ষতিকর কোনও প্রভাব পাওয়া যায়নি। তাছাড়া বাগান কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে কীটনাশক প্রয়োগের এক সপ্তাহ পর চা পাতা উত্তোলন করার জন্য।’চা বাগানে কীটনাশক প্রয়োগে নিয়ম মানা হচ্ছে না

চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কীটতত্ত্ব) মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, ‘কীটনাশক সরকার অনুমোদিত থাকায় চা বাগানে পোকামাকড় দমনে প্রয়োগ করতে হয়। ফলে টিলার আশেপাশের জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি থেকে বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বনে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।’

রেজিস্টার, স্টলস্টার জাতীয় বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত কীটনাশক চা বাগানে প্রয়োগ করা হয়। নিয়ম না মেনে যথেচ্ছা রাসায়নিক সার মিশ্রিত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পোকামাকড়ের সঙ্গে ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন প্রাণীও মারা পড়ছে। অন্যদিকে, কীটনাশক ও বালাইনাশক নিয়ম না মেনে ব্যবহারের ফলে দিনে দিনে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও জীবাণু কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে।

ফিনলে টি কোম্পানি ভাড়াউড়া চা বাগানের ডিজিএম গোলাম শিবলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চা বাগান সারা বৎসর চায়ের মশা, লাল মাকড়সা (রেড স্পাইডার) রোগের বেশি আক্রমণ হয়ে থাকে বলে পরিমিতভাবে কীটনাশক ব্যবহৃত হয়। বিটিআরআই থেকে মাঝেমধ্যে কীটনাশকের এমআরএল এর ভ্যালু মূল্যায়ন করা হয়। ফলে এগুলো মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়।’

/এমও/টিএন/

আরও পড়ুন-
কী থাকছে বিএনপির ‘ভিশন ২০৩০’-এ?