জানা গেছে, অকাল বন্যায় হাওরে ভাটিপাড়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০০ জনের তালিকা প্রণয়ন করে ইউনিয়ন পরিষদ। বুধবার প্রথম ধাপে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ তিনটি ওয়ার্ডে ৪৫০ জনকে সরকার প্রত্যেককে ঘোষিত ৩৮ কেজি চাল ও নগদ ৫০০টাকা বিতরণ শুরু করা হয়। ৯ নং ওয়ার্ডে বিতরণ শেষ করে বিকেল ৩টার দিকে ৭ নং ওয়ার্ডে বিতরণ শুরু করে শেষ করার মুহূর্তে এই ওয়ার্ডের ধলকতুব গ্রামের তালিকায় বাদপড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার নগেন্দ্র চন্দ্র দাসের উপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। এমন সময় ইউপি চেয়ারম্যান, পুলিশ সদস্য ও চৌকিদাররা এগিয়ে আসলে তারাও কৃষকের রোষানলে পড়ে লাঞ্ছিত হন।
খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাবেল, দিরাই থানার ওসি মোস্তফা কামাল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল হাই খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা একই পরিবারে একাধিক নাম ও ধনী ব্যাক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করেছেন। একই ব্যক্তির নাম দুইবার তালিকায় থাকার অভিযোগও করেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান শাহজাহান কাজী বলেন, “যথাযথভাবে প্রত্যেককে ৩৮ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা বিতরণ শুরু করা হয়। ৭ নং ওয়ার্ডে বিতরণের শেষের দিকে উপস্থিত কয়েকজন তাদের নাম নেই কেন ইউপি সদস্যকে জিজ্ঞেস করেন। তখন ইউপি সদস্য তাদের বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাব ১৫০ জনের নাম দিতে বলছে। আমি দিছি, তুমরার নাম বাদ পড়লে পরে দেওয়া যাবে’। এ সময় তারা ইউপি সদস্যকে মারধর করতে এগিয়ে আসে। পুলিশ বাধা দিতে চাইলে তাদেরকেও মারধর করে। তখন আমি এগিয়ে গেলে আমার উপরও হাত তুলে। আমার হাতে বিতরণের অবশিষ্ট টাকা ছিল। তা ছিনিয়ে নেয় তারা।”
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দিরাই থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান জানান, তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম হওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। ত্রাণ বঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ হয়ে উশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
/এএ/