সিলেটে পিবিআই পরিদর্শকসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা

 

মামলাসিলেটের ওসমানীনগরে ভূমির নামজারি জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর ইন্সপেক্টর মোহন লাল তালুকদারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা হয়েছে। নগরীর দায়রা জজ আদালতে হাজী আব্দুল বারি মামলাটি দায়ের করেছেন। 

আদালতের বিচারক গোলাম মতুর্জা মামলাটি গ্রহণ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকাকে তদন্ত করে আদালতের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) মামলাটি হাজী আব্দুল বারির পক্ষে আদালতে দাখিল করেন সিনিয়র আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী ও শোয়েব আহমদ।

শওকত আলী ও মোহন লাল তালকদার ছাড়াও এজহার নামীয় আসামিরা হচ্ছে- কানুনগো প্রমোদ কুমার ধর,নামজারী সহকারী অরুণ জ্যোতি পুরকায়স্থ,ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রতিশ দাস,অফিস সহকারী আব্দুল হালিম,সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূর উদ্দিন আহমদ নুনু,ইউপি মেম্বার আনহার আলী,সিলভিউ হোটেলের মালিক দলিল গ্রহিতা আশিকুর রহমান,আবু উল রিশদ,আব্দুল কাদি,সহযোগী মাসুক মিয়া,জুলফিকার আলী ও মূল বেনিফিসিয়ারী মাসুক আলী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী বালাগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের হাজী আব্দুল বারি’র খালা ওসমানীনগরের কুরুয়া গ্রামের সুলতানুন খাতুন ও তার স্বামী আব্দুল মন্নান নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান। এই দম্পতির মৃত্যুর পর তাদের বাড়ির কাজের লোক মাসুক আলী নিজেকে ওই দম্পতির পুত্র দাবি করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড প্রস্তুত করে সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আইডি কার্ড বানোর তথ্য জেনে হাজী আব্দুল বারী বালাগঞ্জ থানায় মাসুক আলীর বিরুদ্ধে জিআর মামলা করেন। পরে আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। 

মামলাটি বিচারাধীন থাকাবস্থায় ওসমানীনগর উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সময়ে উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নামজারী প্রক্রিয়াধীন থাকাবস্থায় বায়নাপত্রের মাধ্যমে সিলেট নগরীর নাইওরপুলস্থ হোটেল সিলভিউয়ের মালিক আশিকুর রহমান তড়িঘড়ি করে প্রায় ৬ কোটি টাকার সম্পত্তি নামজারিকৃত ভূমি ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা মূল্যে গত বছরের ২০ মার্চ দলিল করে নেন। 

এঘটনায় মাসুক ও আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে হাজী আব্দুব বারী একটি মামলা আদালতে দায়ের করলে আদালত মামলাটি তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সিলেট পিবিআই’র ইন্সপেক্টর মোহন লাল তালুকদার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে বাদী নারাজি দেন এই প্রতিবেদনের ওপর। এরপর আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর আদেশ দিলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।

 

/এসটি/