পৌরসভার নবীনগর এলাকায় সুরমা নদীর পানি উপচে শহরে প্রবেশ করছে‘যতবার বড় পানি আয় ততবারই আমরার বাড়িঘরে পানি ওঠে। অথচ একটা বান (বাঁধ) থাকলে এ রকম হতো না।’ এভাবেই দুর্ভোগের কথা বলছিলেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার নবীনগর আবাসিক এলাকার মতি মিয়া।
সুনামগঞ্জ জেলা শহর ঝাউয়ার হাওর ও সুরমা নদী বেস্টিত।বর্ষাকালে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হয় শহরের ষোলঘর,কাজীরপয়েন্ট, পশ্চিমবাজার, তেঘরিয়া, সাহেববাড়ির ঘাট, বড়পাড়া, মল্লিকপুর, ওয়েজখালী, জলিলপুরসহ বেশকিছু নিচু এলাকা। শহর রক্ষা বাঁধ না থাকায় পৌর শহরের ৭/৮টি পয়েন্ট দিয়ে সুরমা নদীর পানি শহরে প্রবেশ করছে।
sunamgonjসুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জ শহর নিচু এলাকায় অবস্থিত। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুরমা নদী। বর্ষাকালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শহরে প্রবেশ করে সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। উঁচু সড়ক বা ড্রেন নির্মাণ করে শহরের বন্যা প্রতিরোধ করা যাবে না। এর জন্য দরকার নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ। পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সভা সেমিনারে বেরি বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু দাবিটি আলোর মুখ দেখেনি। ৬ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আবাবিল নূর বলেন, শহর রক্ষা বাঁধ না থাকায় বর্ষার শুরুতেই শহরের নিচু এলাকার বাসিন্দারা মারাত্মক দুর্ভোগের স্বীকার হন। তাই শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু।
সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ বলেন, দেশের সব নদী তীরবর্তী শহরে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রয়েছে। কিন্তু সুনামগঞ্জে নেই। বাঁধ থাকলে শহরের সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো প্রতিবছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। শহরবাসীও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতো।
sunamgonj 1সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখত জগলুল বলেন, শহরে বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন সভা সেমিনারে বারবার শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানালেও কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব বলেন, শহরে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় শহরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। সুনামগঞ্জ পৌরসভার নবীনগর, ষোলঘর, উকিলপাড়া, জেলরোড, মাছবাজার, মধ্যবাজার, পশ্চিমবাজার, তেঘরিয়া,বড়পাড়া, মল্লিকপুর, ওয়েজখালী জলিলপুর সুরমা নদীর তীরবর্তী আবাসিক এলাকা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে লোকালয় প্লাবিত হয়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন, ‘সুনামগঞ্জ শহরের বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে লিখিতভাবে প্রস্তাবনা আসলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখবে।’
/বিএল/