চায়ের দেশে এসেছে শীত

শ্রীমঙ্গলে সকালে এমন ঘন কুয়াশা পড়ে

শরত এখনও বিদায় নেয়নি। এরই মধ্যে প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। চায়ের জন্য বিখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এরই মধ্যে শীত পড়তে শুরু করেছে। দিনে গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই শীত অনুভূত হতে শুরু করে। সন্ধ্যায় হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কমতে থাকে তাপমাত্রা। আর সকালে ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে প্রকৃতি।

শ্রীমঙ্গলে গত কয়েকদিন ধরে রাত ১২টা থেকে সকাল প্রায় ৭টা পর্যন্ত এমন চিত্র দেখা গেছে। শহরের স্টেশন রোডের চা ব্যবসায়ী পীযুষ দাস গুপ্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দিনে রোদের তাপ বেশ ভালোই থাকে। সন্ধ্যা হতেই বইতে শুরু করে ঠাণ্ডা হওয়া। রাত ১২টার পর তা আরও বেড়ে যায়। রাতে গরম কাপড় গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। সকালে দেখা যায় ঘন কুয়াশা।’

20171027_070416-(1)

শনিবার ভোরে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রিকশাচালক তাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের।  তিনি বলেন, ‘এবার একটু আগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে, এবার শীতের তীব্রতা অনেক বেশি হবে। রিকশা চালিয়ে খেতে হয়, তাই সঙ্গে গরম কাপড় রেখেছি।’

এরই মধ্যে লেপ-তোশকের দোকানে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। আগেভাগেই শীত নামায় লেপ-তোশকের বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল শহরের রিফাত বেডিং হাউসের মালিক জালাল আহমদ।

গাছের পাতা ও ঘাসে জমে শিশির

তিনি বলেন, ‘এবার একটি লেপ বানাতে ১২০০-১৪০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সারাদিনে ২০-৩৫টা লেপ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্টকে রেডিমেট প্রচুর লেপ-তোশক আছে।’

এরই মধ্যে শহরের পোস্ট অফিস রোডের এম সাইফুর রহমান মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোয় শীতের কাপড়ের পসরা দেখা গেছে। বিক্রিও মোটামুটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন দোকানি।

20171027_070416

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার হারুনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শনিবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সকালে শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি।তিনি বলেন, আগামী মাস থেকে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে চলে আসবে।