বাল্যবিয়ের হাত থেকে বাঁচলো কিশোরী, মা ও বরের দণ্ড

মৌলভীবাজারমৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এক কিশোরী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মেয়েটির মা ও বরকে কারাদণ্ড দেন। রবিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে এই ঘটনা ঘটে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশশেরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরী ও তার পরিবার শ্রীমঙ্গল শহরের আপ্তাব উদ্দিন সড়কের বাসিন্দা। রবিবার রাতে গোপনে মেয়েটির বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছিল তার অভিভাবকরা। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশশেরুল ইসলাম বিকালের দিকে একদল পুলিশ নিয়ে বাসায় যান। প্রথমে অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে অভিভাবক তাদের কাছে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে বাল্যবিয়ের উদ্যোগ নেওয়ায় কিশোরীর মা ও বরকে দণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কিশোরীর মা নাজমা আক্তারকে (৫০) সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড  ও তিন সন্তানের জনক বর হুসেন আলীকে ২১ দিনের বিনাশ্রম করাদণ্ড দেওয়া হয়। বরের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামে। কিশোরীটিকে এক প্রতিবেশীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের ইউএনও মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন, ‘১৮ বছরের আগ পর্যন্ত কোনও মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যাবে না। বর হুসেন আলী আগের দুই স্ত্রী আছে। তার দুই ছেলে ও একটি মেয়েও রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে কিশোরী মেয়েটিকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নেওয়ায় সে অপরাধী। তাদের থানা পুলিশের মাধ্যমে মৌলভীবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’