প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসক ও হাসপাতাল পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

 

মৌলভীবাজারমৌলভীবাজারে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে পপি রাণী পাল নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় নূরজাহান প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৯ নভেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল হাকিম কাজী বাহাউদ্দিনের আদালতে নিহতের দেবর মিন্টু পাল বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলটি আমলে নিয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানাকে মামলাটি এফআইআরভুক্ত করে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মৌলভীবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কোরবান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ডা. ফারজানা হক পর্ণা ও হাসপাতাল পরিচালক তোয়াহিদ আহমদ। এছাড়া আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত পপি রাণী পাল গত ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় নূরজাহান প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। নিহতের পরিবার সার্জারি করার জন্য ডা. সুধাকর কৈরীকে চাইলেও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ফারজানা হক পর্ণাকে দায়িত্ব দেয়। পপিকে রাত ৯টায় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কিন্তু সন্তান জন্মদানের পরও পপির রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ডা. ফারজানা ও তার সহযোগীরা পর পর তিনবার অস্ত্রোপচার করেন। এরপরও রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে ভোর ৬টার দিকে গুরুতর অবস্থায় রোগীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে রেফার্ড করেন তারা। সেখানে নেওয়ার পর পপির অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এরপর তাকে সিলেটের পার্ক ভিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায়  উল্লেখ করা হয়, আসামি ডা. ফারজানা হক পর্ণা নিহত পপি রাণী পালকে ভুল অপারেশন করে  পেটের ভিতর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলেন। পরে তাড়াহুড়া করে সার্জারি করতে গিয়ে রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন।  

এসআই মো.কোরবান আলী জানান, এ ঘটনায় উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।