সুনামগঞ্জে স্কুলছাত্রী মুন্নীর ঘাতক ইয়াহিয়া গ্রেফতার

স্কুলছাত্রী মুন্নীর হত্যাকারী ইয়াহিয়াসুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্কুলছাত্রী হুমায়ারা আক্তার মুন্নীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ইয়াহিয়া সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ১টায় সিলেটের জালালাবাদ এলাকার মাসুক বাজার থেকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ নেতৃত্বে পুলিশের তিনটি দল তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং কের পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান বলেন, ‘ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যে ঘাতক ইয়াহিয়াকে গ্রেফতার করা হলো। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ইয়াহিয়া প্রথমে ময়মনসিংহ, পরে ঢাকা ও সিলেটে বেশ কয়েকবার যাতায়াত করেছে। এছাড়া সে সিলেটের মাজার এলাকায় কিছু সময় অবস্থান করে। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তার গতিবিধির ওপর পুলিশ সবসময় নজরদারি করে।’

হুমায়ারা আক্তার মুন্নীপুলিশ সুপার বলেন, ‘দিরাইয়ে একটি দোকানে সে সেলসম্যানের কাজ করতো। এ সুবাধে তার সঙ্গে মুন্নীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেটি কিছুদিন বহাল ছিল। পরে মনোমালিন্য দেখা দিলে সে মুন্নীকে হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনার দিন ইয়াহিয়া ও তার বন্ধুরা মুন্নীর বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে মুন্নীকে ছুরিকাঘাত করে।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার মাদানী মহল্লা এলাকায় ইয়াহিয়ার ছুরিকাঘাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী মুন্নী মারা যায়। ঘাতক ইয়াহিয়া মুন্নীকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। এনিয়ে এলাকায় সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার পরও থেমে থাকেনি ইয়াহিয়ার অত্যাচার।

১৭ ডিসেম্বর মুন্নী নিহত হওয়ার ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি ইয়াহিয়া ও তানভীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিন জনের বিরুদ্ধে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যতম আসামি তানভীরকে ওইদিন দিরাই থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।