তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ ‘রেস’ ঠিকই চোখে পড়ছে। ‘কাউয়া’ উপাধি দিয়ে কারও কারও নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষও ছড়ানো হচ্ছে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে ২০১৮ সালকে নির্বাচনি বছর বিবেচনায় দলের ভেতরেও প্রতিযোগিতা বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাতীয় সংসদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনও সামনে। ফলে সিলেটের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মাঠে বেশ তৎপর।
জনশ্রুতি রয়েছে, সিলেট-১ আসনে যে দল বিজয়ী হয় সেই দলই শাসন ক্ষমতায় বসে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন নির্বাচনি প্রচারণার একটি অংশ। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আগে-ভাগেই সিলেটের নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেটে দলের বর্ধিত সভায় দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এ রকম বার্তা দিয়েছিলেন। এদিকে আগামী সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে ভোটের মাঠ। ইতোমধ্যেই সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, মাস তিনেক আগে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সভায় সভাপতি শেখ হাসিনা সিলেটের নেতাদের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই সময় তিনি সাংগঠনিকভাবে সবাইকে সিলেটের মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেন। তার এই নির্দেশের পর থেকে সিলেটে ভোট প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম কাজ করছেন। তবে মাহিউদ্দিন সেলিমকে আওয়ামী লীগের অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
আপাতত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের ভোটের মাঠ সরগরম। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরাও থেমে নেই। তারাও একইভাবে প্রচারণায় নেমেছেন। সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে আবুল মাল আবদুল মুহিত, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইমরান আহমদ, শফিকুর রহমান চৌধুরী, এ কে আবদুল মুমিন, সারওয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিনসহ বেশ কিছু নেতা মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি কাড়তে অনেকেই ব্যাপকহারে প্রচারণা চালিয়েছেন তাদের অনুসারীদের দিয়ে। এর মূল উদ্দেশ্য দল থেকে নির্বাচনি মনোয়ন পাওয়া। তবে দলের মনোনয়ন বোর্ড কাকে মনোনয়ন দেবে এটা দলের একান্ত বিষয়।'
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘আমি নিজের প্রচারণায় বিশ্বাসী নই। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজে বিশ্বাসী। দলকে সার্বিক দিক থেকে শক্তিশালী করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’