সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় হামলার আশঙ্কায় সতর্ক নজর রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কেউ যাতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আব্দুল ওয়াহাব জানান, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগরীতে কেউ যাতে কোনও ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে সেজন্য সতর্ক অবস্থানে থাকবে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশও মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর রাখা হবে। নগরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সিলেটের ৬টি থানার ওসিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘রায়কে কেন্দ্র করে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। আবাসিক হোটেলগুলোতে অতিথিদের বিষয়টি নজরে রাখা হবে। এছাড়া সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেমন বাস টার্মিনাল, আদালত, ট্রেন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে চোরাগোপ্তা হামলা যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’
পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেট নগর বিশেষ শাখা থেকে এসএমপি’র ৬টি থানায় ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের জামায়াত-বিএনপির নাশকতা মামলার অগ্রগতির তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি নাশকতা মামলার আসামিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সার্বিক তথ্য নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ নাশকতা মামলার আসামিদের বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে সিলেট নগর বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) সুজ্ঞান চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সিলেট মহানগর পুলিশের একজন ওসি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কয়েক বছর আগের নাশকতা মামলার আসামিদের সার্বিক তথ্য চেয়ে নগর পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে আমাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পুলিশ নাশকতা মামলার আসামিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি পুলিশ সদর দফতর থেকে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য জেলার পুলিশ সুপারদেরও নির্দেশনামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে পুলিশ সুপারদের (এসপি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে এসপিদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে পুলিশ ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রবেশমুখে পুলিশ চৌকি বসিয়ে তল্লাশি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার ও পুলিশ সদস্যদের দলগতভাবে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সদর দফতরের নির্দেশনামূলক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার (গণমাধ্যম) বলেন, ‘সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। সেজন্য জেলা পুলিশের আওতাধীন সব থানার ওসিদের সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কোনও ধরনের অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার ক্ষমতা পুলিশের রয়েছে। যারাই নাশকতার চেষ্টা করবে, আইন নিজের হাতে তুলে নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
সিলেট র্যাব-৯ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক, গণমাধ্যম) মনিরুজ্জামান জানান, ‘সিলেটে কেউ যাতে নাশকতা না করতে পারে সেজন্য র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। র্যাবের টহল টিমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। এছাড়াও র্যাবের পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যদের নজরদারিতে থাকবে পুরো সিলেট। কেউ নাশকতা করার চেষ্টা করলে তাদের শক্তহাতে প্রতিহত করা হবে।’