হাকালুকি হাওরে কমেছে পাখির সংখ্যা

হাকালুকি হাওরে পাখিমৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে চলতি শীত মৌসুমে ৪৪ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা পাওয়া গেছে। আর মোট পাখির দেখা মিলেছে ৪৫ হাজার ১০০টি। এরমধ্যে 'পিয়ং হাঁস' পাখির দেখা মিলেছে সবচেয়ে বেশি। সংখ্যায় পিয়ং হাঁস দেখা গেছে ৫ হাজার ৬৭৫টি।

হাকালুকি হাওরে পাখি শুমারি শেষে কুলাউড়ায় জীববৈচিত্র্য রক্ষার কাজে নিয়োজিত ক্রেল প্রকল্পের স্থানীয় কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের সরকারি সংরক্ষিত মাছের অভয়াশ্রম বিল পাখির অনিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর পাখির সংখ্যা কম।

বিশ্বের শীতপ্রধান দেশগুলোতে শীত যখন তীব্র হয়ে ওঠে তখন এ দেশের আতিথ্য নিতে ছুটে আসে পরিযায়ী পাখিরা। প্রতিবারের মতো এবারও পরিযায়ী পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসলেও পাখির সংখ্যা কম।

হাওরে কমেছে পাখির সংখ্যাকুলাউড়ায় ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেম অ্যান্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল) প্রকল্প হাকালুকি হাওরের ফিল্ড অর্গানাইজার মো.হেলাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে ৪৮ হাজার হেক্টর জুড়ে বিশাল এ হাওরের আয়তন শুকনা মৌসুমে ২৫ হাজার হেক্টরে নেমে আসে। এবার পুরো হাওর জুড়ে অতিথি পাখির দেখা মিলেছে। পাখি শিকারীর কারণে এ বছর পাখি কম।’

তিনি বলেন, একদিকে গরু, মহিষ চড়ানোর কারণে জঙ্গল ধ্বংস হচ্ছে। জীববৈচিত্র রক্ষা করতে হলে হাওরের জঙ্গলগুলো রক্ষা করতে হবে। আর এসব জঙ্গল রক্ষায় মিডিয়া সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম হক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব এবং ক্রেল প্রজেক্ট গত ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি হাকালুকি হাওরে পাখিশুমারি সম্পন্ন করে। হাওরে মোট ৪৪ প্রজাতির ৪৫ হাজার ১০০ পাখি পাওয়া গেছে। এরমধ্যে হাকালুকির হাওর খালে সবচেয়ে বেশি পাখি দেখা গেছে। এখানে ১৫ হাজার ৭৩৫টি পাখি দেখা যায়। প্রজাতি অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে পিয়ং-হাঁস।

তিনি আরও জানান, পাখির সংখ্যার দিক থেকে এ বছরটি দ্বিতীয়। ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ এই তিন বছরের চেয়ে এবার পাখির সংখ্যা বেশি। তবে গত বছরের চেয়ে কম। পরিযায়ী পাখিদের প্রজাতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

পাখি পর্যবেক্ষণএদিকে হাকালুকিতে চলতি শীত মৌসুমে পর্যটক-দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। প্রতিদিনই পাখিপ্রেমিরা ছুটে আসছেন এখানে পাখি দেখতে। হাকালুকিতে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে দূরবীনের সাহায্যে পাখি আর বিলের জলজ সম্পদ দেখে মুগ্ধ পর্যটকরা।