শাহ আবদুল করিমের জীবন দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় এই লোক উৎসবের। উদ্বোধন শেষে বাউল করিমের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। রাতে বাউল গানের আসরে সংগীত পরিবেশন করেন বাউল আব্দুর রহমান, বাউল রনেশ ঠাকুর, বাউল সিরাজ উদ্দিনসহ অনেকে বাউল শিল্পীরা।
লোক উৎসব উপলক্ষে শাহ আব্দুল করিমের বাড়িতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এসেছেন।
বাউল সম্রাটের অন্যতম শিষ্য বাউল আব্দুর রহমান বলেন, ‘মানুষে মানুষে সম্প্রীতির বন্ধন ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয় এই লোক উৎসবের। লোক উৎসবকে কেন্দ্র করে উজান ধল গ্রামে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে করিম ভক্তদের আগমন হয়েছে। রাতে বাউল গানের আসরে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতি ঘটে।’
ছাতক উপজেলার জাউয়া গ্রামের আচ্ছদ্দর আলী বলেন, বাউল শাহ আব্দুল করিম আজীবন মানুষের কথা বলে গেছেন। তার গানের কথায় খেটে খাওয়া মানুষের কথা ফুটে ওঠেছে। তাই লোক উৎসবে প্রচুর মানুষের আগমন ঘটে।
জৈন্তা ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মোস্তাক চৌধুরী বলেন, ‘লোক উৎসব হলো আবহমান গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্য। তার গান দেশে বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাউল শাহ করিম খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলেছন। তার গানে শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা ফুটে ওঠেছে। তাই তাকে তার গানকে ভালোবেসে লোক উৎসবে যোগদান করেছি।’
বাউল পুত্র শাহ নূর জালাল বলেন, ‘লোক উৎসবে শাহ আব্দুল করিমের গান পরিবেশন করা হয়। এ অনুষ্ঠানের মুল লক্ষ্য হলো প্রচার ও প্রসার। রাতভর বাউল গানের মাধ্যমে শাহ আব্দুল করিমের গানের মর্মবানী ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ২০০৬ সাল থেকে লোকউৎসব পালন করা হচ্ছে।’