সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী শাহ আব্দুল করিম লোক উৎসব শুরু

 

karimএকুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১০২ তম জন্মদিন উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে দুই দিনব্যাপী শাহ আব্দুল করিম লোক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (২ মার্চ) বিকাল ৫টায় উজানধল মাঠে শাহ আব্দুল করিম পরিষদ ও ধলগ্রামবাসীর উদ্যোগে ১৩ তম লোক উৎসবের উদ্বোধন করেন বাউল সম্রাটের ছেলে শাহ নুর আলম ঝলকসহ মঞ্চে আসা অতিথিরা। লোক উৎসব চলবে শনিবার (৩ মার্চ) ভোররাত পর্যন্ত।

শাহ আবদুল করিমের জীবন দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় এই লোক উৎসবের। উদ্বোধন শেষে বাউল করিমের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। রাতে বাউল গানের আসরে সংগীত পরিবেশন করেন বাউল আব্দুর রহমান, বাউল রনেশ ঠাকুর, বাউল সিরাজ উদ্দিনসহ অনেকে বাউল শিল্পীরা।

লোক উৎসব উপলক্ষে শাহ আব্দুল করিমের বাড়িতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এসেছেন।

mela2চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, ‘বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম বাংলার লোকায়ত সংগীত ধারায় একজন শক্তিমান সাধক। বাউল দর্শনের যে পরম্পরা রয়েছে সেখানে তিনি উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। তার গানের মধ্যে রয়েছে বিচিত্র সম্ভার। তিনি বাউলের বিভিন্ন ধারায় মিশে গান রচনা করেছেন। তার গণ সংগীতের ধারা প্রচলিত বাউল ধারা থেকে ভিন্নধর্মী। এটি এ কারণে যে বাউলরা কেবল বস্তুগত কিংবা অধ্যাত্মবাদের সাধনা করে থাকেন। এক্ষেত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম ব্যতিক্রম।’

বাউল সম্রাটের অন্যতম শিষ্য বাউল আব্দুর রহমান বলেন, ‘মানুষে মানুষে সম্প্রীতির বন্ধন ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয় এই লোক উৎসবের। লোক উৎসবকে কেন্দ্র করে উজান ধল গ্রামে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে করিম ভক্তদের আগমন হয়েছে। রাতে বাউল গানের আসরে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতি ঘটে।’


ছাতক উপজেলার জাউয়া গ্রামের আচ্ছদ্দর আলী বলেন, বাউল শাহ আব্দুল করিম আজীবন মানুষের কথা বলে গেছেন। তার গানের কথায় খেটে খাওয়া মানুষের কথা ফুটে ওঠেছে। তাই লোক উৎসবে প্রচুর মানুষের আগমন ঘটে।

melaজগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা বাউল আব্দুর রহমান হাদী বলেন, শাহ আব্দুল করিমের গানে আল্লাহর প্রীতি ও সান্নিধ্যের তত্ত্ব পাওয়া যায়। তিনি ইসলামী দর্শন নিয়ে অনেক গান লিখেছেন।

জৈন্তা ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মোস্তাক চৌধুরী বলেন, ‘লোক উৎসব হলো আবহমান গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্য। তার গান দেশে বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাউল শাহ করিম খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলেছন। তার গানে শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা ফুটে ওঠেছে। তাই তাকে তার গানকে ভালোবেসে লোক উৎসবে যোগদান করেছি।’

বাউল পুত্র শাহ নূর জালাল বলেন, ‘লোক উৎসবে শাহ আব্দুল করিমের গান পরিবেশন করা হয়। এ অনুষ্ঠানের মুল লক্ষ্য হলো প্রচার ও প্রসার। রাতভর বাউল গানের মাধ্যমে শাহ আব্দুল করিমের গানের মর্মবানী ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ২০০৬ সাল থেকে লোকউৎসব পালন করা হচ্ছে।’