ফয়জুলের কাছ থেকে জঙ্গি সংগঠনের তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ

ফয়জুর ওরফে ফয়জুলশাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুলকে (২৫) রিমান্ডে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য তার কাছ থেকে জঙ্গি সংগঠন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা। তার সঙ্গে আর কোনও জঙ্গির যোগাযোগ আছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া। সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পুলিশি পাহারায় ফয়জুলকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে আদালতে নিয়ে আসা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানান, ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় ফয়জুলের মা মিনারা বেগম, বাবা মাওলানা আতিকুর রহমান এবং মামা সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুর রহমানকে এখনও পুলিশের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।এদিকে বৃহস্পতিবার ফয়জুলের ব্যবহৃত মোবাইল ও ট্যাবসহ তার ভাই এনামুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ফয়জুলের ভাই এনামুল তার সম্পর্কে অনেক তথ্য জানে। পুলিশ তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে।’

আদালতে পুলিশের রিমান্ডের আবেদনের বরাত দিয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘ফয়জুল পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের ধারণা, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় পুলিশ তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সে একেক সময় একেক তথ্য দিয়েছে। এমনকি তার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের দায়িত্বশীল কারও যোগাযোগ আছে কিনা সেবিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ।’

সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের এপিপি খোকন কুমার দত্ত জানান, রিমান্ড শুনানিকালে ফয়জুরের পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে অংশ নেননি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও  জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ‘আদালতে করা রিমান্ডের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারকৃত ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুলের (২৫)  সঙ্গে অন্য কোনও জঙ্গি সংগঠন কিংবা উচ্চপর্যায়ের কারও যোগাযোগ আছে কিনা সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ, পুলিশ শুরু থেকেই ধারণা করছে জাফর ইকবালের ওপর হামলার সঙ্গে সে একা জড়িত নয়। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন থাকতে পারে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’ 

ফয়জুরের কাছ থেকে কী ধরনের তথ্য পেয়েছেন জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ‘তার পরিবারের কাছ থেকে ফয়জুল ও তার ঘনিষ্ঠজনদের বিষয়ে পুলিশ অনেক তথ্য পেয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কিছু তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ফয়জুল অন্য কারও নাম বলতে চাচ্ছে না।’ 

‘দাওয়াহ ইলাল্লাহ’ নামে একটি উগ্রবাদী ফোরামের নির্দেশনায় লেখক ও অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে হামলাকারী ফয়জুল। ওই গ্রুপে জাফর ইকবালকে হত্যা করা নিয়ে নিয়মিত আলোচনাও হতো বলে জানিয়েছে সে।

আরও পড়ুন- 

কীভাবে জঙ্গিবাদে জড়ায় ফয়জুল?

‘দাওয়াহ ইলাল্লাহ’ ফোরামের নির্দেশনায় জাফর ইকবালের ওপর ফয়জুলের হামলা