সিটি করপোরেশন নির্বাচন: সিলেটে আ. লীগের মনোনয়নের জন্য তৎপর ‘দুই উদ্দিন’

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও আসাদ উদ্দিন আহমদসিলেট নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং অন্যজন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। দুজনই একই দলের রাজনীতিবিদ। তাদের দুজনের দল ও নামের সঙ্গে মিল থাকলেও মনোয়নের জন্য দুজনই এখন দুই মেরুর। নির্বাচনের মাঠে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।



চলতি বছরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটে আওয়ামী লীগের হয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। তবে শেষ মুহূর্তে তাদের দলের মনোয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেনে নিতে হবে। তারা দুজনই দাবি করছেন, কেন্দ্র থেকে তাদের মাঠে থাকার জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র হিসেবে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান অনেকটাই এগিয়ে আসাদ উদ্দিনের চেয়ে।
জানা যায়, সাবেক মেয়র কামরানের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। দলের কিংবা নগরের কেউ কোনও সমস্যায় পড়লে ছুটে যান কামরানের বাসায়।
এদিকে প্রায় আড়াই বছর থেকে সিলেটে সক্রিয় হয়ে ওঠেন সাবেক ছাত্রনেতা ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন। কামরানকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ দিয়েই মাঠে নামেন তিনি। সিলেটের বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানেও তাদের দেখা যায় একই মঞ্চে।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘যতটুকু জানি দল থেকে এবারও আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সিলেটের মানুষের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছি। যদিও আমি এখন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নই, তবুও নগরবাসী যে ভালোবাসা আর সম্মান আমাকে দেখিয়ে যাচ্ছেন সেজন্য আমি মনে করি এবারের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তারা আমাকে আবারও ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন। সিলেটে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নৌকার বিজয় হবে নিশ্চিত। আমরা অতীতেও এর প্রমাণ পেয়েছি।’
দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তৎপর রয়েছে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ কামরান। এ প্রসংঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের একটি বৃহৎ দল। এই দল জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে চলে। যার কারণে দল থেকে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে সেটা নির্ধারণ করবেন দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সিলেটের মানুষের ভালোবাসার কারণেই আমি আজকের কামরান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আমার প্রাণের সংগঠন এবারও আমাকেই মেয়র পদে মনোনয়ন দেবে।’
সূত্র জানায়, সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার হিসেবে জনপ্রতিনিধির খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। এরপর নির্বাচিত হন পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে। পরবর্তীতে ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা উন্নীত করা হয় সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনেও নগরবাসী আস্থা রাখেন কামরানের প্রতি। সিলেট সিটির প্রথম নগরপিতা হিসেবে অভিষিক্ত হন কামরান। ২০০৮ সালে সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনেও ভোট বিপ্লব ঘটিয়ে কারারুদ্ধ কামরান পুনরায় মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। ওই সময় ছেলের হয়ে মাঠে ভোট চাইতে নামেন কামরানের মা। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৃণমূল থেকে ওঠে আসা কামরানের সামনে ছিল হ্যাটট্রিক মেয়র হওয়ার সুযোগ। কিন্তু সেখানেই ঘটে ছন্দপতন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হার মানতে হয় তাকে।
সিলেট নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দলের মনোয়ন বোর্ড থেকে এবার আমি মনোনয়ন পাবো। সেজন্য কেন্দ্র থেকে গ্রিন সিগন্যাল আমাকে দেওয়া হয়েছে। যার কারণেই আমি এখনও মাঠে রয়েছি। তাছাড়া সিলেটের মানুষসহ দলের তৃণমূলের বিশাল একটি অংশ আমাকে চাচ্ছে। মানুষ এখন পরিবর্তন চাচ্ছেন। নগরের মানুষের সেই চাওয়া থেকে এবং তৃণমূল আওয়ামী লীগ সমর্থনে আমি প্রার্থী হবো। আমার বিশ্বাস তৃণমূলের জরিপ এবং মানুষের চাওয়ার ব্যাপার যদি গুরুত্ব দেয়-তাহলে অবশ্যই আমি মনোনয়ন পাবো।’
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘সিলেটে আওয়ামী লীগের হয়ে মেয়র পদে কে নির্বাচন করবেন এটা সিদ্ধান্ত নেবে দলের সভানেত্রীসহ মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। যদিও অনেকেই এখনও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য তৎপর রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেই সব মুজিব আদর্শের সৈনিকদেরকে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে বুঝে শুনে দিবে। সিলেটে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। এখানে দল যাকে মনোয়ান দিবে তার পক্ষে কাজ করবে দলের নেতাকর্মীরা।