মা ও একমাত্র ভাইয়ের মৃত্যুতে আতঙ্কগ্রস্ত রাইসা এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। খেলার ছলে পুলিশ রাইসার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদায় করেছে। ঘটনার দিন রাইসা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বাসার কাজের মেয়ে তানিয়ার (১৬) সন্ধানে অভিযানে নেমেছে। গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় রবিবার (১ এপ্রিল) বিকেলেই রাইসাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে রাতে তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তার দেখাশোনা করছেন তার খালা লিপি বেগম।
রাইসার মামা জাকির হোসেন বলেন, ‘মা আর ভাই এর শেষ বিদায়ও দিতও (দিতে) পারল না (পারেনি) রাইসা। এর থাকি (এর চেয়ে) কষ্টের আর কোনতা (কিছু) নাই।’
এদিকে সোমবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে রোকেয়া বেগম ও রবিউল ইসলাম রোকনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট নগরের মানিক পীরের গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
মামলার বাদী রাইসার মামা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন আরও জানান, ‘পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী রাইসাকে ভিকিটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। সেখানে সে সবার সঙ্গে গল্প করার পাশাপাশি অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনার দিনই পুলিশ তাকে চিকিৎসা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, সোমবার (২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নগরের মানিক পীরের গোরস্থানে বোন রোকেয়া ও ভাগ্নে রোকনের লাশ দাফন করা হয়েছে। পুলিশ ও ডাক্তারের পরামর্শে রাইসাকে লাশ দেখানো হয়নি। ভিকিটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাইসার সঙ্গে তার খালা রয়েছে। এছাড়াও তারা সেখানে গিয়ে রাইসাকে দেখে এসেছেন।
সিলেট কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাওসার দস্তগীর বলেন, ‘জোড়া খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা মা ও ভাইয়ের সঙ্গে রাইকেও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেছিল। ওই সময় রাইসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে বাসার ভেতর ফেলে রেখে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। রাইসার গলায় আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। সেটা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করার পর তাদের আঙুলের ছাপের সঙ্গে সংরক্ষণ করা আঙুলের ছাপগুলো মিলিয়ে দেখা হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রোকেয়া বেগম জানান, রাইসার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ । তবে তার মা ও ভাইকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়টি এখনও পরিষ্কার না। পুলিশের ধারণা দুজনকেই ধারালো ছোরার দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাদের বিছানায় ও মেঝেতে রক্ষের দাগ পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। নিহত রোকেয়া বেগমের মেয়ে রাইসা এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, সিলেট নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের খারপাড়া এলাকার মিতালি ১৫/জে নম্বরের তিন তলা বাড়ির নিচ তলায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া। রবিবার বাড়ির ভেতরে থাকা রোকেয়া বেগমের পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসার কান্না ও পচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে দুপুরে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের লাশ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: জন্মের পর আযান না দেওয়ার নবজাতককে হত্যা, বাবা আটক