বিউটি হত্যাকাণ্ড: আদালতে বাবুল ও বিউটির চাচার জবানবন্দি

আদালতে নেওয়া হচ্ছে বাবুল মিয়াকেহবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত কিশোরী বিউটিকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বাবুল মিয়া ও বিউটির চাচা আওয়ামী লীগ নেতা ময়না মিয়া। শুক্রবার (৬ এপ্রিল) বিকাল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। জবানবন্দিতে বিউটি হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন চাচা ময়না মিয়া। পুলিশের একটি সূত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
এদিকে বিউটি হত্যাকাণ্ডে তার নানী ফাতেমা বেগমের জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আগামীকাল শনিবার (৭ এপ্রিল) প্রেস ব্রিফিং করা হবে। এর আগে সোমবার (২ এপ্রিল) বিউটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি একই গ্রামের দিনমুজুরের মেয়ে বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। তাকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে রেখে ধর্ষণ করে বাবুল। এ ঘটনার প্রায় ১ মাস পর পর বাবুল মিয়া কৌশলে বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ১ মার্চ বিউটি আক্তারের বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরন ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৬ মার্চ বিউটি নানীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ১৭ মার্চ বিউটি আক্তারেরর লাশ স্থানীয় হাওর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে পরদিন তার বাবা বাদী হয়ে হয়ে বাবুল মিয়াসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইল নামে এক যুবককে আটক করে।
এই ঘটনার পর ২৯ মার্চ হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। এরপর ৩১ মার্চ সিলেট থেকে বাবুলকে আটক করে র‌্যাব।