কুলাউড়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের মাঠে মেলার প্রস্তুতি!

এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে এভাবেই চলছে মাসব্যাপী মেলার প্রস্তুতিচলমান এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজ মাঠে মাসব্যাপী ‘কুটির শিল্প ও বস্ত্র মেলা’ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এতে করে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত মেলা আয়োজন না করার আবেদন জানিয়ে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর। এইচএসসি পরীক্ষা চলা অবস্থাতেই কলেজ কর্তৃপক্ষ মেলা আয়োজনের জন্য কলেজ মাঠ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (২৩ এপ্রিল) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে, একই দাবিতে গত বুধবার (১৮ এপ্রিল) কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বীর কাছে স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা জানান, কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে মাসব্যাপী এই মেলা আয়োজন করেছে ‘নন্দন সামাজিক সংগঠন, স্কুল চৌমুহনী’ নামে একটি ক্লাব। তবে এর জন্য তারা জেলা প্রশাসনের কোনও অনুমতি নেয়নি। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যেই এই মেলার আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় পরীক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।
এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে মেলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাপারে কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য সজল বলেন, ‘স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি মেলা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছেন। সেখানে আমার কিছু করার নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও চিন্তিত।’ মেলাকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও করছেন তিনি।
তবে মেলা আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব জানালেন কুলাউড়া নন্দন সামাজিক সংগঠন, স্কুল চৌমুহনী’র বোর্ড চেয়ারম্যান এম মছব্বির আলী। তিনি বলেন, ‘মেলার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। জেলা প্রশাসনের অনুমোদন পেলেই মেলা শুরু করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, স্মারকলিপি পেয়েছি। সব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মাসব্যাপী এই মেলাকে ঘিরে ব্যবসায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আগের বছরের এই মেলার কারণে তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। এ কারণেই ব্যবসায়ীরাও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে মেলা বন্ধের আবেদন জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়ে চলেছেন।
কুলাউড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম বলেন, বিগত বছরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা ছিল। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। তাই গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এ বছর মুনাফা হবে বলে আশা করছিলাম। কিন্তু মাসব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হলে ফের লোকসানের মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।