কয়েকদিনের টানা ছুটি পেয়ে ভ্রমণ পিপাসুরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভিড় জমিয়েছে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে হয়ে উঠেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে হোটেল-মোটেল ও কটেজগুলোর অধিকাংশই পরিপূর্ণ। পর্যটকদের নিরাপত্তা পাশাপাশি পরম আতিথেয়তায় ব্যস্ত সময় পার করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে প্রতি বছর ঈদ-কোরবানি, পূজা-পার্বন, বড়দিন, ইংরেজি নববর্ষ ও বাংলা নববর্ষসহ ছুটির দিনগুলোতে দেশি-বিদেশি প্রকৃতি প্রেমী মানুষের ভিড় জমে উঠে। টানা ছুটি পেয়ে গত শুক্রবার থেকেই লাউয়াছড়া উদ্যানে পর্যটকদের আগম ঘটতে থাকে, যা দিনে দিনে বাড়ছে। এরইমধ্যে ফিনলে চা বাগান, মাধবপুর লেক, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর, বাইক্কাবিল হাইল হাওর, লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়া পান পুঞ্জি, লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কসহ বিভিন্ন স্পট পর্যটকদের ভিড়ে ফিরে পেয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। আবার পর্যটকের হাল্লা চিৎকারের কারণে বন্যপ্রাণীর ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে।
লাউয়াছড়া বেড়াতে আসা আলতা-বানু ছবির অভিনেত্রী ফারজানা রিক্তা বলেন, ‘লাউয়াছড়া বনে বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে, এসব প্রাণী দেখতে লাউয়াছড়ায় আসা। এর আগেও অনেকবার শুটিং করে গেছি। প্রকৃতির এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে বার বার ছুটে আসি।’
স্থানীয় ট্যুার অপারেটর রিজভী বলেন, ‘টানা কয়েক দিনের ছুটি থাকায় গরম ও ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই পর্যটকরা ঘুরতে এসেছে লাউয়াছড়ায়। তবে দুইদিন বৃষ্টির কারণে কারণে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। কেউ একা, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে আবার কেউ পছন্দের মানুষকে নিয়ে উপভোগ করছেন নৈসর্গিক সৌন্দর্য। এতে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সহায়তা ও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে ‘
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফ ও তার স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ‘ঈদ-কোরবানিসহ উৎসবের বন্ধে স্বজনদের কাছে ছাড়া কোথাও যাওয়া যায় না। তবে এবার অপ্রত্যাশিত ছুটি পেয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়ানোর চিন্তা মাথায় এসেছে। তাই সবাইকে নিয়ে লাউয়াছড়া এসেছি। গত দু'দিনে বেশ কিছু জায়গায় ঘুরেছি। এতে বাচ্চারা বেশ আনন্দ পাচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে, তারপরও ভাল লাগছে।’
টাঙ্গাইল থেকে আসা কলেজছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, ৮-১০ জন বন্ধু নিয়ে লাউয়াছড়া বেড়াতে এসেছি। নানা জায়গায় ঘুরেছি, বেশ মজা পাচ্ছি।’
ছুটিকে কারণে লাউয়াছড়া ও মাধবপুর লেকে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এবার হোটেলের ভাড়া, খাবারের দাম, অভ্যন্তরীণ পরিবহন ভাড়া অনেক বেড়েছে। দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা ঘুরে দেখা নিয়ে পর্যটকদের উৎসাহের কমতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় যানবাহন চালক খুরশেদ আলমসহ অনেকে।
টানা ছুটির দিনগুলোতে জেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানান লাউয়াছড়া ইকো কটেজের ব্যবস্থাপক রুহিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল দর্শনীয় স্থান, এখানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। এছাড়াও লেমন গার্ডেন ও গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ হোটেল, টি রিসোর্ট ও লিচু বাড়ি ইকো কটেজ, হিড বাংলাদেশেও রয়েছে পর্যটকদের ভির।