নিতুর বাবা কামরুল হাসান বলেন, মেয়ের চিকিৎসা করাতে করাতে নিঃস্ব হয়ে গেছি। মেয়ের চিকিৎসায় সাহায্যে করতে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।
মা জ্যোৎস্না বেগম জানান, সমাজকর্মী রাখী তার সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সে কিছুটা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে। কিন্তু তার চিকিৎসা ব্যয়বহুল। এই দেশে সম্ভব না। এ জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি নিতুর দায়িত্ব নিয়েছেন নারী সমাজকর্মী চৌধুরী জান্নাত রাখী। এখন নিতুর অধিকাংশ সময় কাটে তারই বাসায়।
সমাজকর্মী ও বাংলাদেশ মাদকবিরোধী শক্তির যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী জান্নাত রাখী বলেন, ‘নিতুকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে। তাই আমি ওকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। নিতুকে স্থানীয় প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে।’
হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, নিতু বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত। এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা অল্প বয়সেই বৃদ্ধ হয়ে পড়ে। এ রোগ সাধারণত মা-বাবার কাছ থেকে আসেনি। জিনেকটিভ জিন থেকে এ রোগ সৃষ্টি হয়। এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা বেশি দিন বাঁচে না। গড় আয়ু মাত্র ১৩ বছর।’
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ লাখের মধ্যে মাত্র একজন এ রোগ আক্রান্ত হচ্ছে। এ রোগের এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের ট্রিটমেন্ট আবিষ্কার হয়নি, শুধু তাকে সাপোর্ট দেওয়া যাবে।’
হবিগঞ্জ-৩ আসনরে এমপি আবু জাহির বলেন, ‘নিতুর রোগের খবর শুনে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তার পরিবারকে ৪ লাখ টাকা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। এছাড়া আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’