তিনি বলেন, ‘প্রতিকার ও করণীয় নিয়ে ইতোমধ্য হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সভা করে রেজুলেশন আকারে নেওয়া হয়েছে, আর যদি কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারী লাঞ্ছিত হন তাহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া হাসপাতালে প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। শুধু কুলাউড়া নয় পার্শ্ববর্তী জুড়ী উপজেলার রোগীরাও জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন এই হাসপাতাল থেকে। প্রতিদিন ৫ শতাধিক রোগী জরুরি ও বহির্বিভাগে সেবা নিয়ে থাকেন। অথচ মাত্র ৪ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে এই সেবা কার্যক্রম। রোগীর দেখতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হয় ।
এরমধ্যে সামান্য বিষয়ে রোগীদের সঙ্গে আসা স্বজনরা চড়াও হয় ডাক্তারের ওপরে। বিশেষ করে রাতে কর্তব্যরত নার্সরা দায়িত্ব পালনে কখনও হামলার শিকার হয় কিনা তা নিয়ে তারা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় থাকেন। যদিও পরবর্তীতে বিষয়গুলো সমাধান হয়েছে। কিন্তু লাঞ্ছিত হওয়া চিকিৎসকরা তখন কুলাউড়ায় দায়িত্ব পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ মার্চ রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া নিয়ে রোগীর আত্মীয় লাঞ্ছিত করেন ডা. ইমরানকে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। কিন্তু ক্ষোভে ডা. ইমরান বদলি হয়ে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চলে যান।
সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল রাতে কুলাউড়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সবুজ তার ভাই গেন্দু মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক সমরিজত সিংহ তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু ডাক্তার কেন নিজ হাতে গেন্দু মিয়াকে অক্সিজেন লাগিয়ে দিলেন না এই অজুহাতে ডা. সমরজিত সিংহকে চড় মারেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সবুজ। এ নিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এ নিয়ে সোমবার (২৩ এপ্রিল) কুলাউড়া হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনকালে ডাক্তারদের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালন সম্পর্কে করণীয় নির্ধারণে এক সভায় মিলিত হন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কুলাউড়া উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘আমার ভাই হাসপাতালে মারা যান। এ সময় আমিসহ আত্মীয়রা একটু হাল্লা চিৎকার করেন। বিষয়টি এমপি সাহেব তাৎক্ষণিকভাবে ডাক্তারের সঙ্গে বসে মীমাংসা করে দেন। মারামারির কোনও ঘটনা ঘটেনি।’
জানতে চাইলে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যুবলীগ নেতার সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে দলের শীর্ষ নেতারা তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে গেছেন। তাই মেনে নিয়েছি আমরা। আর যদি কোনও ডাক্তার বা নার্সদের ওপর এ ধরনের হামলা হয়, তাহলে আমরা সহ্য করবো না। প্রশাসনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে ডাক্তারের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন আছি। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে ডাক্তাররা কুলাউড়ায় চাকরি করতে আসবেন না। ’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে সভা করেছি। সভায় রেজুলেশন আকারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেজুলেশনের কপি উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।’