অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পাঁচশ’ হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে গিয়ে নতুন করে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে কৃষকরা। বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকলে জলাবদ্ধতার আরও বাড়বে। তখন তাদের জমির ধান জমিতেই নষ্ট হবে বলে জানিয়েছে কৃষকরা।
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের কাদির মিয়া বলেন, ‘গেল বারের বন্যায় ফসল মাইর যাওয়ার পর এবার ২৪ কিয়ার জমিতে ২৮ ও ২৯ জাতের ধান লাগিয়ে ছিলাম। ২৮ ধান কোনও রকমে কেটে ঘরে তুলতে পারলেও ২৯ এখনো ক্ষেতের মধ্যে। পানিতে অর্ধেক ক্ষেত ডুবে গেছে। এর জন্য বেশি দামে ব্যাপারি এনে ধান কাটছি।’
কবির মিয়া বলেন,‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে লালপুর, রাধা নগরসহ ১০টি গ্রামের কৃষকের পাকা ধানের জমিতে হাটু পানি। আরও বৃষ্টি হলে সর্বনাশ হয়ে যাবো। ক্ষেতের ধান ক্ষেতেই থাকবে কাটা যাবে না।’
তাজ উদ্দিন বলেন,‘খরচার হাওর এমনিতেই অন্যান্য হাওরের থেকে অনেক নীচু। তাই বৃষ্টির ও ঢলের পানিতে হাওরের ফসল নষ্ট হয়ে যায়।’
জমসিদ মিয়া বলেন, ‘পরিকল্পনা ছাড়া বেরি বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টিতে হাওরে যে পানি জমে তা কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। এ কারণে ওই পানি ক্ষেতে এসে জমেছে।’
দৌলত মিয়া বলেন, ‘পাকা ধানের ক্ষেত হাসছে আর ধানের নীচে বৃষ্টির পানি ধান গাছের আগা ছুঁই ছুঁই করছে। জমিতে পানি থাকায় কেউ ধান কাটতে রাজী হয় না। তাই দ্বিগুণ দামে শ্রমিক এনে ধান কাটাতে হচ্ছে।’
ছাদির আলী বলেন,‘হাওরের পশ্চিমে একটি স্লুইস গেট দিলে প্রত্যেক বছর এ সমস্যায় পড়তে হতো না। সরকার হাওরের চার দিকে উচু বাঁধ দিলেও স্লুইস গেট দেয়নি।’
মহিনুদ্দিন বলেন, ‘কম পক্ষে দেড় হাজার কৃষকের জমিতে বৃষ্টির পানি আটকা পড়েছে। আরও বৃষ্টি হলে বাধ ভাঙা ছাড়াই জমির পাকা ধান পানির নীচে তলিয়ে যাবে। এদিকে ধান কাটার শ্রমিকরা ওই সব জমিতে ধান কাটতে চাচ্ছে না। যারা ধান কেটে দিতে রাজি হচ্ছে তাদের গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে’।
সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত খরচার হাওরে ৬ হাজার হেক্টর আবাদ যোগ্য কৃষি জমি রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, হাওরে ১০ হাজার কৃষক ৪ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এসব জমির ফসল কেটে ঘরে তুলতে পারলে কৃষকের ঘরে উঠবে ত্রিশ হাজার মেট্রিক টন ধান।
অন্যদিকে খরচার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বিশ্বম্ভরপুর ও সদর উপজেলায় ৩৬ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, ‘হাওরে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তা ফসলের তেমন ক্ষতি করবে না। হাওরের দুইশ’ হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।’ পানি জমার আগেই কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কৃষি বিভগের দেওয়া তথ্য মতে হাওরের ৬০ ভাগ জমির ফসল কাটা হয়ে গেছে।