সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের টেবিল ঘড়ি অথবা বাস প্রতীক চেয়েছেনে। দলীয় প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’ না থাকায় সিলেট মহানগর জামায়াতের নেতারা আলাপ-আলোচনা করে এই দুটি প্রতীক চেয়েছেন। জামায়াতের আমির ও মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বুধবার সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে (২৭ জুন) মনোনয়ন দাখিল করেন। সিলেটে জামায়াত প্রার্থীর দাখিল করা মনোনয়ন প্রাথমিক পর্যায়ে রেখেছে দলের একাংশের দায়িত্বশীলরা। কারণ গত নির্বাচনের মতো এবারও তারা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হককে জোটগতভাবে সমর্থন দিয়ে জয়ী করতে চান। এদিকে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের অপর একটি অংশ ওপেন সিটি নির্বাচন চাচ্ছেন। তারা সিটি নির্বাচনে সব দলের প্রার্থী দেওয়ারক সমর্থন করেন। এসব নিয়ে জামায়াতের দুই গ্রুপের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, আইনের বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে সিটি নির্বাচনে আমাদের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নেই। এ কারণে আমরা বেকায়দায় পরেছি। তাই দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আমি প্রতীক চেয়েছি টেবিল ঘড়ি অথবা বাস। দুটিই প্রতীকই সুন্দর।
মনোনয়ন দাখিল করলেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমরা সিলেট সিটি নির্বাচনকে ‘ওপেন’ করে রাখার জন্য জোটের নেতাদের জানিয়ে রেখেছি। এখনও জোটের কোনও বৈঠক হয়নি। সিলেটের জামায়াতের সমর্থনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছে। নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিচ্ছে কিনা এবিষয়ে সিলেট মহানগর জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা যায়, জামায়াতের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা উচ্চ আদালতের আদেশে নির্বাচন কমিশন বাতিল করেছে। তাই জামায়াত নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেও তাদের দলের প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না। প্রার্থীকে অন্য প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ জানান, সিলেট মহানগর একটি মর্যাদাপূর্ণ এলাকা। এখানে বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছে। জামায়াত জোটের শরীক দল হওয়ার কারণে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিতেই পারে। তাদের দাবি সিলেট সিটির নির্বাচন ওপেন করে দেওয়া, তবে আমরা এর বিপক্ষে মতামত দিয়েছি। এখানে ওপেন নির্বাচনের কোনও প্রশ্নই আসে না? যতটুকু জানি জোট থেকে এবারও বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হককে সমর্থন দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতের হয়ে সিলেট মহানগরের আমীর অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়ন দাখিল করলেও জোটের নেতাদের কাছ থেকে তেমন কোনও সাড়া পাচ্ছেন না। তাছড়াও দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাই দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতকে অংশ না নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তাই জামায়াত প্রার্থী জুবায়েরের মনোনয়ন দাখিলের বিষয়টি দল প্রাথমিক পর্যায়ে রেখেছে। নির্বাচনে তার অংশ না নেওয়ার সম্ভবনাই রয়েছে। কারণ সিলেটে জামায়াত থেকে কেউ প্রার্থী হলে জোটের ভোট ভাগ হয়ে যাবে। আর ভোট ভাগাভাগি হলে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জয়ী হওয়ার সম্ভবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। আর জোট থেকে বিএনপি সমর্থিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে যদি পুরোপুরি সমর্থন দেওয়া হয় তাহলে আরিফের বিজয়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের নেতারা ‘ওপেন’ নির্বাচন চাইলেও এবিষয়টি মানতে নারাজার সিলেট বিএনপির নেতারা। এমনকি ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারাও এ বিষয়টি ভালো দৃষ্টিতে দেখছেন না।