সূত্রমতে, গত ৩০ এপ্রিল আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতর আলী মিয়া ঢাকায় একটি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। এরপর উক্ত পদটি শূন্য ঘোষণা করে গত ১০ জুন উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ জুলাই ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
গত ১৮ জুন উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল আমিন মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসবাহসহ ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ। এর একদিন পর পুলিশ মিসবাহ ও তার ভাই নুরুল হক ভূইয়াকে ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনার একদিন পর নিহত আল আমিনের ছোট ভাই আলাউদ্দিন বাদী হয়ে মিসবাহকে প্রধান আসামি করে ২৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১১ জনকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছে মিসবাহ।
এদিকে গত ২২ জুন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসবাহ উদ্দিনকে উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
গত ২৪ জুন মিসবাহ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদিকে তার বিরোধিতা করে নিহত আল আমিনের ছোট ভাই আলাউদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক স্বাধীন মিয়া মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিন ছাড়াই শহরে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না।
এ ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, এ নিয়ে আগামী নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুর রহমান সজিব বলেন, ‘দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা তাকে নিয়েই কাজ করতে চাই। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সবাই মিলে কাজ করবো। ’
তিনি আরও বলেন, ‘মিসবাহ উদ্দিন মামলার আসাসি হলেও নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না। ’
নিহত আল আমিনের ছোট ভাই ও নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়বো। আমার ভাইকে যারা ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছে তাদেরকে আগামী নির্বাচনে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।’
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মর্তুজা হাসান বলেন, ‘উপজেলা বর্ধিত সভা শেষে আমিসহ ৩ জনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তবে মিসবাহ উদ্দিনের নাম মনোনীত করা হয়েছে। এতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা না।’
আল আমিন হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জনের ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য রয়েছে। কেউ বলছেন, কিল-ঘুষিতে মারা গেছে, আবার কেউ বলেছেন স্ট্রোক করে মারা গেছে। যেহেতু আমি সরেজমিনে ছিলাম না তাই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘হত্যা মামলার বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক। আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ’
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘হত্যা মামলা দায়েরের আগেই মিসবাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যক্তি প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারবে না। মিসবাহসহ কোনও আসামিকে এলাকায় পেলেই পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করবে।’
ওসি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিল কিংবা যাচাই-বাছাই কোনও অনুষ্ঠানেই মিসবাহ ছিলেন না। আইন সবার জন্যই সমান।’