রশিদের স্ত্রী হুসনা বেগম বলেন, স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ছেদ পড়েছে। চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে তার স্বামী জীবিত থাকতেই হাওরের মাছ ধরতো। স্বামীর মৃত্যুর পর মেজো ছেলে মাদ্রাসার পড়ালেখা বাদ দিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে মাছ ধরতে যায়। সারাদিন মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে। এ অবস্থায় বাকি চার সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর সামর্থ্য তাদের নেই। অথচ মেয়ে তানজিনাকে শিক্ষক বানানোর স্বপ্ন দেখতেন আব্দুর রশিদ।
চরমহল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা বেগম বলে, তারা চার ভাইবোন স্কুলে লেখাপড়া করে। তাদের খাতা-কলম, স্কুলের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ চালানোর সামর্থ্য তাদের নেই। এজন্য আগামীতে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আলী আহমদ জানায়, সরকার যদি তাদেরকে খাদ্য সহযোগিতা না করে, তাহলে তাদের চলতে খুব কষ্ট হবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ বলেন, বজ্রাঘাতে মৃতদের বিষয়ে সরকার খুব আন্তরিক। নিহতের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুলাই পর্যন্ত বজ্রাঘাতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা করেছে সরকার।