সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর এবার দলের কোন্দল মেটানোর জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সিলেট সফরে আসছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওই দিন তিনি সিলেট আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানেও যোগ দিবেন।
জানা যায়, সাংগঠনিক গতি বাড়ানোর জন্য এবার সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হতে পারে। তবে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও দুটি কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি পাওয়ার আশায় তৎপরতা শুরু করেছেন ডজন খানেক নেতা। এছাড়া সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের কারণেই সিলেটের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডও চিন্তিত। দলের সাধারণ সম্পাদকের আগমনকে ঘিরে ক্ষোভে-দুঃখে বিপর্যস্ত দলের ত্যাগী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন, ওবাদুল কাদের তাদের জন্য কি বার্তা নিয়ে আসছেন এ আশায়। সে বার্তায় তারা উজ্জীবিত হবেন এবং জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পালে হাওয়া লাগবে।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সময় আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সভাপতি ও শফিকুর রহমান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষণা করা হয় জেলা কমিটি। ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা যাওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। পাশাপাশি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সে সময় মহানগরে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সভাপতি ও আসাদ উদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদি এ দুই কমিটির মেয়াদ শেষে আরও প্রায় চার বছর অতিবাহিত হয়েছে।
দলের নেতাকর্মীরা জানান, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ের জন্য আওয়ামী লীগই দায়ি। দুই মেয়াদে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ সিলেটে যে পরিমাণ উন্নয়ন করেছে, বিগত যে কোনও সময়ের তুলনায় তা অনেক বেশি। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের ঘরে যে ফল আসার কথা, তা গেছে প্রতিপক্ষের ঘরে। এর কারণ হিসেবে নেতাকর্মীরা দলের অনৈক্য, গ্রুপিং রাজনীতি, উন্নয়নের প্রচারে ব্যর্থ, সাধারণ মানুষ তথা ভোটারের কাছে না যাওয়া, অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে প্রচার বিমূখ থাকা এবং সর্বোপরি বলয়ভিত্তিক রাজনীতির চর্চা করে ত্যাগী, পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে সুবিধাভোগিদের পদ-পদবিতে নিয়ে আসাকে দায়ি করেন। এছাড়া মেয়াদ অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন একই কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি না হওয়ায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হয়নি। আর এ বিষয়টি খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছেন। যে কারণে জাতীয় শোক দিবস পালনের অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের আসলেও এ সফরে ভিন্নমাত্রা পাবে বলে তারা আশা করছেন। সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কি বার্তা দেন কাদের, তা নিয়েই কৌতুহলী হয়ে আছেন নেতাকর্মীরা।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন,‘কমিটি থাকবে কি ভাঙা হবে দলীয়ভাবে এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্তের কথা আমার জানা নেই। তবে শোকসভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের কিছু নির্দেশনা দিয়ে যেতে পারেন।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে দুপুর ২টায় শোকসভায় উপস্থিত থাকবেন ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ অনেক নেতা। ওবায়দুল কাদের ছাড়াও দলের যুগ্ম-সম্পাদক, সিলেট-চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গির কবির নানক, এনামুল হক শামীম, সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, দফতর সম্পাদক আব্দুর সোবহান গোলাপসহ অন্য নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরও জানান, শোকসভায় কমিটির ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত হবে কিনা তা আমাদের জানা নেই। এটা দলীয় বিষয়। আগস্ট শোকের মাস। সে হিসেবে মাসব্যাপী শোকদিবস পালন চলছে। এখানে নেতারা শোকসভায় আসছেন। অনুষ্ঠান শোক সভাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।