শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিহত মাধবপুর উপজেলার নিজনগর গ্রামের ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান মজিদের স্ত্রী হাদিছা বেগম (২৪), তাদের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে মীম আক্তার ও ৭ মাসের শিশু সন্তান মোজাহিদ মিয়ার ময়নাতদন্ত শেষে এ তথ্য জানান হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ।
ডা. দেবাশীষ রায় আরও বলেন, ‘দুই শিশুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হাদিসা বেগমের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে বলা যায়, হাদিসা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।’
এদিকে সন্ধ্যায় তাদের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের নিজনগর গ্রামে ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান মজিদের ঘরে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজন ওই ঘরের দিকে এগিয়ে যান। ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এক পর্যায়ে তারা উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখতে পান মজিবুর রহমান মজিদের ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার স্ত্রী হাদিছা বেগমের লাশ পড়ে রয়েছে। আর খাটে তার আড়াই বছর বয়সী শিশু মিম আক্তারের গলা কাটা লাশ পড়ে রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন পেছন দিকে গেলে অপর একটি তালাবদ্ধ কক্ষে ৭ মাস বয়সী মোজাহিদ মিয়ারও গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এ দৃশ্য দেখে তারা মাধবপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
হাদিছার বাবা শামীম মিয়া জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার মেয়ের জামাই মজিবুর তাদেরকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। কোনও মায়ের পক্ষে তার সন্তানদের গলা কেটে হত্যা করা সম্ভব না।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম রাজু আহমেদ জানান, লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্ত করা হয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে দুই সন্তানসহ নারীর লাশ উদ্ধার, সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে