সম্প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে রাসায়নিক ব্যবহার করে জঙ্গি হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এমন তথ্য পাওয়ার পর এবিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সিভিল সার্জনসহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোকে সম্ভাব্য এই হামলা মোকাবিলায় সতর্কতা ও জরুরী চিকিৎসা সেবাদানে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠি পাওয়ার পর সিলেট মহানগর পুলিশসহ চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, সিলেট নগরের মহাজনপট্টি এলাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সধারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি করে থাকে। এছাড়াও সিলেটের আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি নিয়ে ড্রামে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাসায়নিক পদার্থ সংগ্রহ করে। সবচেয়ে বেশি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় সিলেটের চামড়া শিল্প, ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, গাড়ির টায়ার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, স্বর্ণ তৈরির কারাখানা, অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র তৈরির কারাখানা ও প্লাস্টিক শিল্পে বিভিন্ন ধরণের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি করা হয়। তবে সিলেটের কতটি প্রতিষ্ঠানে রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৫টি জরুরি বার্তা দিয়ে সিলেটে নির্দেশনা পত্র পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়- রাসায়নিক হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি হাসপাতালে একটি বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম-ওষুধ সীমিত আকারে মজুদ রাখা, অ্যাম্বুলেন্স সচল রাখা, অপারেশন থিয়েটারে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা (জেনারেটর) সচল রাখা ও বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা টিমের সকল সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ জানান, রাসায়নিক ব্যবহার করে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা ও সহিংসতা রুখতে পুলিশ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে। এছাড়াও মহানগরী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: হিমাংশু লাল রায় বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সম্ভাব্য রাসায়নিক জঙ্গি হামলার সতর্কতা পাওয়ার পর বিশেষ চিকিৎসা টিম গঠনের জন্য চৌকস চিকিৎসকদের দিয়ে টিম গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। টিম গঠনের পর তাদেরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এছাড়াও নিয়মনীতি না মেনে বিভিন্ন উপজেলাসহ সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা, বরইকান্দি, বিমানবন্দর রোড, তালতলা, টুকেরবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় খোলা বাজারে পেট্রোল বিক্রি করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখনও কোনও ভূমিকা দেখা যায়নি। খোলা বাজারে দেদারসে পেট্রোল বিক্রি চলছে সিলেটের গোলাপগঞ্জেও।
একটি চক্র জেনারেটারে (বিদ্যুৎ সরবরাহকারী যন্ত্র) পেট্রোল দেয়ার কথা বলে নাশকতার জন্য সিলেটের পাম্পগুলো থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করে। এরপর এই পেট্রোল ব্যবহার করে পেট্রোল বোমাসহ বিভিন্ন ধরণের নাশকতায় ব্যবহার করা হয়। এগুলো যথাযথভাবে তদারকি হয়না। এমনকি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতৃবৃন্দ এসব তদারকি করেন না।