এদিকে শারদীয় দুর্গা পূজাকে ঘিরে সিলেট জেলাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিশ্চিন্তে উৎসব উদযাপনের জন্য সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তা তদারকিতে থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ। সেই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়াও দুর্গা পূজাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যমে যাতে কেউ গুজব না ছড়ায় তা তদারকি করবে পুলিশের চৌকস কর্মকর্তারা। এছাড়াও আপত্তিকর কিছু কারও চোখে পড়লে কিংবা কোনও অপরাধীদের তৎপরতা নজরে আসলে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় হেল্পডেস্ক নাম্বার ‘৯৯৯’ এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে পুলিশ নিরাপত্তার ছক চূড়ান্ত করেছে। সব মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সবসময় সতর্ক থাকে। দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মণ্ডপ যারা পরিচালিত করবেন তাদেরকে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় ২৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে দুর্গা পূজায় চুরি ছিনতাইসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডরোধে পর্যাপ্ত সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা; মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর, হ্যাজাক লাইটের ব্যবস্থা রাখা ও পূজা মণ্ডপে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম স্তরের নিরাপত্তায় রয়েছে জেলা পুলিশের আওতাধীন যেসব এলাকা পূজার মূর্তি তৈরি করা হয় সেসব স্থানে যাতে দুস্কৃতিকারীরা কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটায় সেদিকে নজর রাখা ও নিরাপত্তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত পূজা চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তা ও তৃতীয় স্তরে রয়েছে মূর্তিগুলো বিসর্জন দেওয়ার সময় নিরাপত্তা দেওয়া। ’