ধর্মঘটের সময় অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় শিশুর মৃত্যু: ৩৮ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট চলাকালে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় শিশুর (৭) মৃত্যুর ঘটনার ৩৮ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর)  ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়।

এ সময়  উপস্থিত ছিলেন,বড়লেখা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম শরীফ উদ্দিন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

২৮ অক্টোবর বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তিনদিন পর ৩১ অক্টোবর শিশুর চাচা আকবর আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ১৬০ থেকে ১৭০ জন শ্রমিককে আসামি করে থানায় একটি মামলা (নং-১৮) করেন। এই মামলার অন্তত ৩৪ দিন পর পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসিম সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শিশুর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের জন্য ৫ নভেম্বর বড়লেখার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হরিদাস কুমারের আদালতে আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ নভেম্বর শিশুর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন  মৌলভীবাজার জেলা হাকিম আদালত।

 আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ নভেম্বর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম শরীফ উদ্দিনকে লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসিম  উদ্দীন শিশুর লাশ উত্তোলনের পর বলেন,‘নির্বাহী হাকিমের উপস্থিতিতে শিশুর লাশটি সকালে কবর থেকে তোলা হয়েছে। এসময় তার পরিবারের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, উপজেলার সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৮ অক্টোবর সকালের দিকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। শিশুর অভিভাবকরা অ্যাম্বুলেন্সে করে শিশুটিকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাওয়ার পথে বড়লেখা উপজেলার পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসের বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি দফায় দফায় পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্সটি চান্দগ্রাম নামকস্থানে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি আটকে চালককে মারধর করেন।

সেখানে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকা রাখা হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি আটকা থাকা অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। দুপুর দেড়টার দিকে গাড়িটি ছাড়া পেলে শিশুকে পাশের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়।  

এদিকে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না,তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (৩ ডিসেম্বর) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

১০ জানুয়ারির মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মেডিক্যাল সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে প্রতিবেদন আকারে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।