তামাবিল সীমান্তে বিজিবি-কাস্টমস সদস্যদের সংঘর্ষ

তামাবিল (ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)সিলেটের গোয়াইঘাট থানাধীন তামাবিল সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কাস্টমস কর্মর্কর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে এ সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে বিজিবি ও কাস্টমসের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি আবদুল জলিল জানান, ‘বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরের দিকে ভারতে সীমান্ত হয়ে তামাবিল সীমান্তে আসেন নেপালি কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসময় বিজিবি সদস্যরা ওইসব শিক্ষার্থীদের ব্যাগে মদ পায়। এ নিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে প্রথম দফায় বিষয়টি মীমাংসা হলেও সন্ধ্যার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এরপর শুরু হয় সংঘর্ষ।’

বিজিব ৪৮ এর অধিনায় কর্নেল শাহ আলম চৌধুরী জানান, ‘ভারত থেকে নেপালের কয়েকজন শিক্ষার্থী সিলেটে আসে। এসময় এদের মধ্যে একজনের লাগেজে মদ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই কাস্টমসের কয়েকজন এসে বিজিবির সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এসময় তারা লাগেজ জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে কাস্টমসে কর্মরত কয়েকজন এসে বিষয়টি তাদের ভুল হয়েছে বলে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের জানালে ঘটনাটি মীমাংসা হয়ে যায়।’

তিনি আরও জানান, ‘এরপর ওই দিন সন্ধ্যার দিকে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে আবারও এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু করে কাস্টমসে কর্মরতরা। এসময় তাদের সঙ্গে আরও বহিরাগত লোকজন এসে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এসময় বিজিবি সদস্যরা তা প্রতিহত করে। যেখানে সরকার সীমান্তে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বিজিবিকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে সেখানে কাস্টমসের অতি উৎসাহী লোকজন প্রতিনিয়ত হস্তক্ষেপ করতে চায় অবৈধ ফায়দা হাসিলের জন্য। তবুও এ ঘটনার সঙ্গে বিজিবির কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তামাবিল কাস্টমসের কর্মকর্তা সুব্রত অধিকারী জানান, ‘বিজিবির সদস্যরা কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের অফিসে কর্মরতদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আমাদের অফিসের মোস্তাফিজুর রহমান, রফিক খান ও তুহিন চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’ কী জন্য এ ঘটনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নেপালি শিক্ষার্থীদের একজন নিয়ম মেনে এক বোতল মদ নিয়ে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করলে বিজিব কোনও কারণ ছাড়াই তা জব্দ করে। এ নিয়ে প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর সন্ধ্যার দিকে বিজিবির সদস্যরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আমাদের কাস্টমসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মারপিট করে। তারা স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’