হাওরবাসীকে বজ্রপাতের থেকে রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে: এমপি রতন

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ-১ আসনের মহাজোট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেছেন,‘সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার কৃষক ও জেলেসহ কর্মজীবী সব মানুষকে বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য ব্যবস্থ নেওয়া হবে। আগে হাওরে বজ্রপাত রোধ করার জন্য ম্যাগনেটিক পুল ছিল যা স্থানীয়দের ভাষায় সীমানা পিলার। এখন সেগুলো আর নেই। হাওরে মানুষকে বজ্রপাত থেকে রক্ষা করার জন্য আমরা ম্যাগনেটিক সিল ব্যবহার করতে পারি। আগে হাওরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের জন্য স্বাভাবিক একটি এখন কপার ওয়ার এবং গ্যালভানাইজিং কপার রড ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আরথিংয়ের কাজ হবে এবং বজ্রপাত রোধেও কাজ হবে।’

বুধবার রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হাওররের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় সুনামগঞ্জ ১ নির্বাচনি এলাকার মহাজোট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি আরও বলেন,‘প্রাথমিকভাবে কম খরচে আমারা এ প্রযুক্তিতে গ্রহণ করতে পারছি। এ মুহূর্তে অন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বজ্রপাত রোধের প্রকল্প হাতে নেওয়া হলে ২০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় হবে। তাছাড়া হাওর এলাকায় বছরের একটা লম্বা সময় পানি থাকে তাই এখানে তাল গাছ হয় না। এটাও আমাদের বড় সমস্যা। এখানে হাওরে হিজল ও করচ গাছ হয় কিন্ত এটা আবার বজ্রপাত রোধে কোনও কাজ করে না। তাহিরপুর উপজেলার সোলেমানপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী হাওরে বিদ্যুতের সোর্স লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে ম্যাগনেটিক পুল ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আমরা প্রাথমিক অবস্থায় বাস্তবায়ন করছি। ভবিষ্যতে বজ্রপাত রোধে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদ নির্বচানের পর এ বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হবে এবং ক্যাবিনেটে কথা হবে।’

উল্লেখ্য বিশ্বে বজ্রপাতের ঘটনায় সুনামগঞ্জের নাম প্রথম তালিকা রয়েছে। প্রতিবছর এখানে ফসল কাটার সময় হাওরে বজ্রপাতে বিপুল সংখ্যক কৃষক মারা যান। এছাড়া বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির আঙ্গিনা থেকে বারান্দায় সব জায়গায় বজ্রপাতের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বজ্রপাতে  একদিনে ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ মারা যাওয়ার মতো রেকর্ডও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জ-১ আসন আর অবহেলিত নেই। হাওরে উড়াল সড়ক নির্মাণ করে ধর্মপাশা উপজেলা সদরের সঙ্গে জেলা শহরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। এটি আঞ্চলিক মহাসড়ক হিসেবে ইতিমধ্যে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে হাওরের যুবসমাজ কষ্টে আছে। তাই বিকল্প কর্ম সংস্থানের জন্য হাওর এলাকায় একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে। এছাড়া হাওরের কৃষকের ধানের ন্যায্য মুল্য পাওয়ার জন্য সাবমার্জিবল রোড নির্মাণ করা হবে। সবজি সংরক্ষণের জন্য সাইলো নির্মাণ করা হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য অবকাঠামো গত উন্নয়ন করা হবে। প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে তাহিরপুরের চুনাপাথর খনি প্রকল্পটিকে আবারও চালু করা হবে। সিমেন্ট ও ক্লিংকার কারখানা স্থাপন করা হবে। এছাড়া এখানে একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। হাওরের কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে নদী খননের কাজ চলছে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক করুণা সিন্ধু তালুকদার বাবুল, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর, বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম হায়দারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একটি নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা নৌকা মার্কার সমর্থনে এলাকাবাসীর কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। সভায় জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য রাখেন।