শিশুদের দিয়ে যৌন ব্যবসার অভিযোগে পুলিশের এসআইসহ দুজন কারাগারে

গ্রেফতার পুলিশের এসআই ও তার ভুয়া স্ত্রীশিশুদের দিয়ে যৌন ব্যবসার অভিযোগে সিলেটে পুলিশের এক এসআই ও তার ভুয়া স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-৯ এর একটি দল তাদেরকে গ্রেফতার করে। নগরের দাঁড়িয়াপাড়া এলাকার মেঘনা এ-২৬/১ নম্বর বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার ও দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এসআইয়ের নাম মো. রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০)। তিনি সিলেট ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত। রোকন নগরের মেডিক্যাল রোডের মুন্সিপাড়ার মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে। এসআইয়ের ভুয়া স্ত্রীর নাম রিমা বেগম (৩৫)। তিনি নেত্রকোনা জেলার কালিয়াজুড়ি থানার আটগাঁও গ্রামের মৃত মফিজুল মিয়ার মেয়ে। তারা নগরের দাড়িয়াপাড়া মেঘনা এ-২৬/১ বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওই বাসা থেকে র‌্যাব তল্লাশি চালিয়ে ৬০ পিস ইয়াবাও উদ্ধার করে। শিশুদেরকে ইয়াবা সেবন করিয়ে যৌন কাজে বাধ্য করা হত। রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া সিলেট ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত। উদ্ধার শিশুদের মধ্যে একজনের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও অন্যজনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের মাঝিকোনা গ্রামে।

রবিবার বিকালে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় সিলেট সিটি করপোরেশনের ২নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিক্রম কর সম্রাট বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে ও র‌্যাব বাদী হয়ে থানায় মাদক আইনে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তাদেরকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন আদালত-২ এ হাজির করলে আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান শুনানি শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিঞা জানান, সিলেট ৭ আর্মড পুলিশের এসআই  রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার ভুয়া স্ত্রী রিমা বেগমের নামে থানায় মানবপাচার ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। আদালত উদ্ধার দুই শিশুকে সিলেট সেইফ হোমে পাঠিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে দুই শিশু জানিয়েছে তাদেরকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতনের পাশাপাশি ইয়াবা সেবন করানো হতো। ইয়াবা সেবন করিয়ে এসআই রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার ভুয়া স্ত্রী রিমা বাসায় আসা বিভিন্ন লোকের কাছে তাদেরকে যেতে বাধ্য করাতেন। তাদের কথা না শুনলে মারধরও করা হতো।