খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমর্রত আছেন ডা. বাবুল কুমার দাস। তিন বছর আগে তাকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ টিএইচও-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বাহুবলে আসার পর রাতারাতি পরিবর্তন ঘটেছে তার ভাগ্যের। দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। অদৃশ্য আয়ে কিশোরগঞ্জে তার ভাইয়ের নামে গড়ে তুলেছেন প্রাইভেট হাসপাতাল।
এছাড়া ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেলেও তিনি থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (টিএইচও) পূর্ণ পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম করছেন। নিচ্ছেন বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা।
তার বিরুদ্ধে দেশের ২০টির বেশি ওষুধ কোম্পানি থেকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। রোগীর ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের ওষুধ লেখার শর্তে তিনি কোম্পানিগুলোর থেকে এ সুবিধা নেন। কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভাষায় তাকে দেওয়া এ সুবিধাকে বলা হয় ‘সম্মানি ভাতা’। এসব উৎকোচ ডা. বাবুল কখনো গ্রহণ করেন নগদে, আবার কখনো ব্যাংক চেকের মাধ্যমে। সম্প্রতি তার এমন একটি উৎকোচ গ্রহণের ‘চেক’-এর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ‘ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড’র ঢাকা তেজগাঁও ব্রাঞ্চের ২১৪৪৪৪২ নং চেকের মাধ্যমে তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে নগদ সুবিধা নেন বলে প্রচার পায়।
তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে হবিগঞ্জ সদরের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেনকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল ও একই কার্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শাহ আলম।
ডা. দেলোয়ার হোসেন জানান, সিভিল সার্জন অফিসের সিদ্ধান্তে তাকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটির সদস্যরা বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। ডা. বাবুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে কমিটি গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানানতিনি।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. বাবুল কুমার দাস। তার দাবি, একটি কুচক্রী মহল তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এ ষড়যন্ত্র করছে।