শনিবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের পর নিখোঁজ হন শাহাব উদ্দীন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার সন্ধান না পেয়ে ভানুগাছ সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. কাইউমুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান।
লিখিত পত্রে বলা হয়, ‘ভানুগাছ স্টেশন মাস্টার মো. শাহাব উদ্দীন শনিবার রাত ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনে কর্তব্যরত ছিলেন। এর পর থেকে তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আকস্মিকভাবে স্টেশনের মাস্টার নিখোঁজ হওয়ায় রবিবার সকাল পর্যন্ত এই স্টেশনের কাজকর্ম এলোমেলো হয়। ফলে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ রেখে মাস্টার আব্দুর রহিমকে সাময়িকভাবে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।’
ভানুগাছ রেলওয়ে সহকারী মাস্টার কাইউমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শ্রীমঙ্গল জিআরপি থানাকে অবহিত করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা বরাবর এ ঘটনাটি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রক্রিয়া চলছে।’
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক আলীম উদ্দীন বলেন, ‘তার খোঁজ পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এদিকে, শাহাব উদ্দীন ফকিরের স্ত্রী সাবিনা বেগম গত রবিবার বিকালে শ্রীমঙ্গলে স্টেশনের প্রধান মাস্টার মো.জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেনের কাছে আসেন পরামর্শ নিতে ও জিআরপি থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে। সাবিনার সঙ্গে ছিল তার শাশুড়ি ও ছেলে।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান মাস্টার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শাহাব উদ্দীন ফকিরের স্ত্রী আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা তাকে বুঝিয়ে বলেছি, একটু ধর্য ধরার জন্য এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে দেখার জন্য।’
প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল রাতে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাহাব উদ্দিন ফকির ও উপজেলা যুবলীগের এক নেতার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে ভাইরাল হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের এক নেতার সঙ্গে থাকা ওই ছবি ভাইরাল হলে কমলগঞ্জ উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। ছবিতে দেখা যায়, একজন আরেকজনকে সিগারেট জাতীয় কিছু একটা ধরিয়ে দিচ্ছেন। ছবি ভাইরালের পর যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ১৩ এপ্রিল বিকালে জরুরি বৈঠকে বসে কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ। এরমধ্যে ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে নিখোঁজ হন স্টেশন মাস্টার শাহাব উদ্দিন।