সিলেটে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডা. ইফাত আরা চৌধুরী

সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরীর হাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক, নিরাপত্তাপ্রহরী ও লিফটম্যান লাঞ্ছনার ঘটনায় ইন্টার্ন ডাক্তারদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তারা আন্দোলনের নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন। সোমবার (১৩ মে) নগরের  মিরবক্সটুলাস্থ উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করন ডা. ইফাত আরা চৌধুরী। তিনি জানান,  ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসী সারোয়ার হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ ও গ্রেফতারের দাবিতে সিলেটের সব মেডিক্যালের ইন্টার্ন ডাক্তারদের কর্মবিরতি চলবে। উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তাররা ঘটনার পর থেকে কর্মবিরতিতে রয়েছেন। এছাড়া, উইমেন্সের সব ডাক্তারকে সোমবার (১৩ মে) দুপুর আড়াইট থেকে কর্মবিরতিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ মে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সব মেডিক্যালের সব ডাক্তারদের কর্মবিরতি, একই দিনে সিলেট বিভাগের সব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে বিকাল  ৪টা-৬টা পর্যন্ত প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখা, সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশে যোগদান, বিএমএ সভাপতি ও সম্পাদক, সিভিল সার্জন, ডেপুটি ডিরেক্টর (স্বাস্থ্য), বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ডা. নিজাম আহমদ চৌধুরী, ডা. হিমাংশু শেখর দাস, ডা. ইশফাক জামান সজীব, ডা. জাবেদ আহমদ, ডা. রিপন, ডা. তিতাশ কুমার, ডা. সোলেমান বাবু, ডা. আফজাল, ডা. সুনান্ত, ডা. শুভ, ডা. জয়, ডা. আরাফাত রহমান, ডা. সাব্বির আহমদ, ডা. হরশিত বিশ্বাস, ডা. প্রবাল মাহবুব হৃদয়।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) সিলেট উইমেন্স মিডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতা সরোয়ার হোসেন চৌধুরী তার এক বন্ধুকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস সংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন এবং কর্তব্যরত ডাক্তারকে তার ১৫/২০ জন অনুসারীর সামনে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন। ডাক্তার নিশাত তাদের বেরিয়ে যাওয়ার কথা বললে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সরোয়ার ছুরি নিয়ে ওই ডাক্তারের ওপর হামলা ও তাকে ধর্ষণের হুমকি দেন। এর প্রতিবাদে তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সেদিনের বিস্তারিত ঘটনার বিবরণ দেন ঘটনার শিকার ডা. নাজিফা আনজুম নিশাত।