‘ধান বেইচ্ছা কাপড় কিনলে খাইমু কী?’

01‘ঘরে খাওনের লাগি ৩০/৪০ মণ ধান আছে। এক মণ ধান বেইচ্ছা একটা শাড়ি কিনন লাগে, এর লাগি এবার ঈদে কুনতা (কিছু) কিনছি না। ধান বেইচ্ছা কাপড় কিনলে খাইমু কী? সরকার তো আর দাম বাড়ায় না।’ কথাগুলো বলছিলেন সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের নূরজাহান বিবি (৬৫)।
দেখার হাওরের তীরবর্তী জনপদ ইসলামপুর গ্রাম। গ্রামের সবার পেশা মাছ ধরা আর কৃষি কাজ। কার্তিক থেকে বৈশাখ মাসে কৃষি কাজ করেন এ গ্রামের মানুষ। আর জৈষ্ঠ্য থেকে আশ্বিন মাস হাওরে মাছ ধরেন তারা। এবারে ধানের ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। যার কারণে ঈদের আনন্দ নেই তাদের মাঝে।
একই গ্রামের ফাইজ উদ্দিনের স্ত্রী আমেনা খাতুন বলেন, এক মণ ধান দিয়ে একটি শাড়ি কেনা যায় এর বেশি কিছু না। নুতন কাপড়ের চেয়ে ভাত খাওয়ার বেশি দরকার তাই ধানের দাম বাড়লে কাপড়চোপড় কিনবো, না বাড়লে কিনবো না।03
পাশেই দাঁড়ানো আলকাছ মিয়ার স্ত্রী জমিলা খাতুন বলেন, এবারের মতো ধানের দাম আর কখনও ছিল না। গেলবার জৈষ্ঠ্য মাসে সাড়ে ৭০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছি. এবার সেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০০ টাকা দরে।
সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের গোয়াচূড়া গ্রামের কৃষক নূর মিয়া বলেন, এবার ৬ কেয়ার জমিতে ধান করেছিলাম। জমি করতে ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। ধান পেয়েছি ৬০ মণ। দেনা পরিশোধ করতে ২০ মণ ধান পানির দরে বিক্রি করতে হয়েছে। এখন ঘরে যে ধান আছে তা বিক্রি করে পাঁচ ছেলেমেয়ের কাপড়চোপড় কিনে দিলে সংসারে টান পড়বে। তাই কাউকে কিছু কিনে দেইনি।
সুনামগঞ্জ বাঁচাও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, ‘সরকারি গুদামে ধান কেনা শুরু হলেও স্থানীয় বাজারগুলোতে এর দাম বাড়েনি। তাই কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ধানের দাম না বাড়লে কৃষকরা লাভের মুখ দূরের কথা জমি চাষাবাদের খরচও তুলতে পারবেন না।’