হবিগঞ্জে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারিরা

গরু মোটাতাজাকরণের কাজ চলছে

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে হবিগঞ্জের খামারগুলোতে চলছে গরু মোটাতাজাকরণের কাজ। হবিগঞ্জে প্রায় ২৫০টি ছোট বড় গরুর খামার গড়ে উঠেছে। এ খামারগুলোতে কোনও ধরনের নিষিদ্ধ ট্যাবলেট ও ইঞ্জেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের কাজ চলছে। এ কারণে বাজারে এসব গরুর চাহিদাও ব্যাপক। হবিগঞ্জের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক খামারগুলো মনিটরিং করছেন বলে জানান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস।

দেশীয় পদ্ধতিতে যত্ন নেওয়া গরু

হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, খামারগুলো এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুর যত্ন নিয়ে ব্যস্ত। খামারিরা খইল, ভূষি, কচুরিপানা ও ঘাসসহ দেশীয় খাবার দিয়ে গরু মোটাতাজা করছেন। খামারিরা এবার কৃত্রিম কোনও ওষুধ ছাড়াই ঈদের সময় বিক্রির জন্য গরুগুলো তৈরি করছেন। তারা আশা করছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত গরুগুলো বিক্রি করতে পারবেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার এতবারপুর গ্রামের হ্যাপি খামারে চলছে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের কাজ।

খামারেই গরুর জন্য উৎপাদিত ঘাস

খামারের মালিক সোহেল মিয়া জানান, তিনি কোরবানির সময় বিক্রির জন্য ৩০টি গরুর যত্ন নিচ্ছেন। তার খামারে গরুর ব্যাপক চাহিদা। অনেকে খামারে এসে কিনে নিয়ে যায়। দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করার কারণেই এতো চাহিদা বলে তিনি জানান।

খামারের কর্মচারী আলী মিয়া জানান, তিনি মাসিক ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। ওই খামারেই গরুর জন্য ঘাস উৎপাদন করা হয়। গরুগুলোকে ঘাস, খইল ও চালের গুঁড়া খাওয়ানো হয়। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের কারণে এখানকার গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আরেক কর্মচারী সাজিদ মিয়া জানান, গরুগুলোকে খাওয়ানোর জন্য একটি মেশিন আনা হয়েছে। উৎপাদিত ঘাসগুলো মেশিন দিয়ে কেটে ছোট করে গরুগুলো খেতে দেওয়া হয়। তারা গরুগুলোর অনেক যত্ন নেন।

খামারে গরুর যত্ন নেওয়া হচ্ছে

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদুল আলম জানান, খামার মালিকরা দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন। আমরা প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস জানান, মানুষকে এবার ঈদে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের লোকজন প্রতিটি খামারে গিয়ে সব সময় তদারক করছেন।