জেদান আল মুসা বলেন, ‘আটক পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চার থানাতে মামলা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে তিন জন কিশোর হওয়ায় তাদের কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় জালিয়াতি মূল চক্রকে ধরতে তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ক্যালকুলেটরে সিম ব্যবহার করে জালিয়াতি করার সময় সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (কেন্দ্র-৪৩) থেকে মাহমুদুল হাসানকে আটক করে দক্ষিণ সুরমা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পরীক্ষা কেন্দ্রের ইনচার্জ অধ্যাপক ড. মোছাদ্দেক আহমেদ চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
একই ডিভাইসসহ শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা (কেন্দ্র-১৪) থেকে ইব্রাহিম খলিল জীবন ও আহসান আলীকে আটক করে জালালাবাদ থানায় এবং মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ (কেন্দ্র০২৪) থেকে সাদ মো. সাহেলকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জালালাবাদ থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল করীম ও কোতোয়ালি থানায় মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রের ইনচার্জ অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
মাহমুদুল হাসান ও সাদ মো. সাহেল বগুড়া জেলার সদর এবং ইব্রাহিম খলিল জীবন ও আহসান আলী একই জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা থেকে এসেছে বলে জানা যায়।
এছাড়া ভিন্ন ডিজিটাল জালিয়াতি ডিভাইসসহ সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (কেন্দ্র-৪০) থেকে মোহাইমিনুল ইসলাম খানকে আটক করে এয়ারপোর্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ইউনুস আলী বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
মোহাইমিনুল ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা থেকে এসেছে বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তিনটি মামলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ১টি মামলা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রের ইনচার্জ দায়ের করেছেন।’
মামলা মূল উদ্দেশ্য জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘পরীক্ষায় জালিয়াতি মূল চক্রকে ধরতে আমরা মামলা করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তাদেরকে জালিয়াতির ডিভাইসসহ আটক করা হয়েছে। তারা যদি অপরাধী হয় তাহলে যেন দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তি হয়। তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে করে আগামীতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।