হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। প্রতিবছর শীতকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে এ উদ্যানে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে উদ্যানটি পর্যটকদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্যানের ভেতর থেকে বারবার অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইয়ের পর নতুন করে যুক্ত হয়েছে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। সম্প্রতি এক মাসের ব্যবধানে উদ্যানের ভেতরে দুটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে উদ্যানের ভেতরে।
গত ৭ জানুয়ারি উদ্যানে ঘুরতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় বৃন্দাবন কলেজের এক ছাত্রী। এ ব্যাপারে ৮ জানুয়ারি প্রেমিকসহ ৫ জনকে আসামি করে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলা করেন তিনি। বিচারক জিয়া উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি আমলে নিয়ে চুনারুঘাট থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় ৯ জানুয়ারি ভোরে মামলার প্রধান আসামি শামীম আহমেদ মামুনকে (২২) আটক করে পুলিশ।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর সাতছড়ি উদ্যানে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক স্কুলছাত্রী। প্রেমিককে গাছে বেঁধে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে একদল দুর্বৃত্ত। অভিযোগ রয়েছে, কিছু দিন পরপরই ঘটে এমন ধর্ষণের ঘটনা।
এছাড়া কয়েক বছর ধরে শীত মৌসুমের শুরুতেই উদ্যানের গভীর অরণ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সাতছড়ি উদ্যানে ঘুরতে আসা কুতুব উদ্দিন জানান, আমরা প্রায়ই পরিবার-পরিজন নিয়ে সাতছড়িতে আসি। সম্প্রতি এখানে ছিনতাই ও ধর্ষণের একাধিক ঘটনায় পর্যটকরা আতঙ্কিত। হবিগঞ্জের কবি, সাহিত্যিক ও নারীনেত্রী তাহমিনা বেগম গিনি বলেন, ‘পর্যটনে অপার সম্ভাবনাময় জেলা হবিগঞ্জ। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। কিন্তু সেখানকার বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। পর্যটকদের কোনও নিরাপত্তা নেই। এর ফলে প্রতিনিয়ত ছিনতাই ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে।
সাতছড়ি ফরেস্ট অফিসার মাহমুদ হোসেন জানান, এ উদ্যানে ট্যুরিস্ট গাইড সব সময় থাকে। সমস্যা হলো তরুণ-তরুণীরা গাইড সঙ্গে নিতে চান না। তিনি বলেন, উদ্যানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিয়োজিত থাকে। আমরা চেষ্টা করি সবসময় পর্যটকদের চলাচল নিশ্চিত করতে।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, সাতছড়িতে ঘুরতে আসা অনেকেই প্রেমিক-প্রেমিকা। পাশাপাশি দুটি ঘটনার ভিকটিমই প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে এসেছিল। অনেক সময় পর্যটন এরিয়ার বাইরে চলে গেলে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে থাকে। তারপরও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। কোনও ব্যক্তিই অপরাধ করে পার পাবে না। পুলিশের স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।