আব্দুল হালিম নামে এক যাত্রী জানান, বাসের পক্ষ থেকে কিছুই জীবাণুনাশক করা হয়নি। জাকির হোসেন নামে আরেক যাত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা কঠোর না থাকায় স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর হচ্ছে না। এক যাত্রীর অভিযোগ, মৌলভীবাজারে আগে লোকাল বাসের যে ভাড়া ২০ টাকা ছিল এখন সেটা ৪০ টাকা। হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস গাড়ির ভাড়া শ্রীমঙ্গল থেকে মৌলভীবাজার ৫০ টাকা। যা আগে ছিল ৩০ টাকা। এমন কি সিটে ডাবল যাত্রী বসিয়েও ডাবল ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সিলেট হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস বাস (গাড়ি নং ৬২৩) চালক সাজ্জাদ হোসেন ও হেলপার তুহিন মিয়া জানান, সরকারি আইন হইছে ডাবল ভাড়া নেওয়ার। তবে সিটে ডাবল বসিয়ে নেওয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, কেউ বসতে চাইলে তো না করা যায় না। অন্যদিকে গা ঘেঁষে কাপড়ের দোকান এবং মুদির দোকান থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করছেন ক্রেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ জুন থেকে মৌলভীবাজার থেকে সিলেট রুটে ভাড়া ৯০ টাকা ও শ্রীমঙ্গল থেকে ১২০ টাকার স্থলে যাত্রীদের কাছ থেকে যথাক্রমে ১৬০ ও ১৯৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যবিধির কথা বলে দুই আসনের বিপরীতে ৮০ ভাগ ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও পরিবহন শ্রমিকরা তা মানছে না। একইভাবে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গল, শমসেরনগর ও কমলগঞ্জ সড়কে সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা নেওয়া হলেও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। সামনে পেছনে যাত্রী উঠানো হচ্ছে। বাসসহ সব ধরণের ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ভাড়াও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
রহিম নামে এক যাত্রীর অভিযোগ ঈদের পরদিন শ্রীমঙ্গল থেকে রংপুর যেতে হানিফ পরিবহনের বাসের ২টি টিকেট (টিকেট নং ডি-১১৭৮২৩) ২৬০০ টাকায় ক্রয় করলেও আসন দেওয়া হয় পাশাপাশি। তিনি বলেন, দুই আসন কিনতে ৪ আসনের ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছেন। দূরপাল্লার বাস রোমার পরিবহন, আনন্দ পরিবহন, রইস পরিবহনেও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য ও অতিরিক্ত ভাড়া আদয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বিপুলসংখ্যক যাত্রী হয়রানি ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনা করলে মৌলভীবাজারবাসী সবচেয়ে সচেতন। তারপরও আরও সচেতন করা, বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পরিবহনের বাড়তি ভাড়াসহ অন্যান্য বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১২ আগস্ট জেলার কুলাউড়া, বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পৃথক পৃথক অভিযান চালায় উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অনেককে জরিমানাও করা হয়।
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১২০ জন। হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩১৫৩ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১২জন। সুস্থ হয়েছেন ৬৯৫ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২০ জন ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৫৫ জন।