ভূমির মালিক না হওয়ায় পুলিশ কনস্টেবল পদে বরিশালের হিজলা উপজেলার আসপিয়া ইসলামের চাকরি পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সমাধান না করে আসপিয়াকে ভূমির মালিক বানিয়ে চাকরিটি পেতে সহায়তা করছে স্থানীয় প্রশাসন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ভূমির মালিক না হলে কি পুলিশের চাকরি পাওয়া যাবে না? যেহেতু প্রশাসন আসপিয়াকে ভূমির মালিক করছে সেহেতু এ প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমির মালিক না হয়েও ২০১৬-তে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার দুই চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান কলিন্স রোজারিও ও রাজু প্রসাদ কৈরী পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছিলেন। শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে ওই দুই পুলিশ সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। বর্তমানে তারা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত আছেন। তবে চাকরি পেতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে হয়েছে তাদের।
জানা গেছে, প্রথমদিকে দুজনই কনস্টেবল পদে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও পরে নিজের বা মা-বাবার নামে কোনও জমি না থাকায় চাকরি পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
কলিন্স রোজারিও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার গাজীপুর চা বাগানের এবং আর রাজু প্রসাদ কৈরী কমলগঞ্জের বাগিছড়া চা বাগানের বাসিন্দা। ২০১৬ সালের ৬ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্স মাঠে কনস্টেবল পদে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছিল তাদের।
কিন্তু ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া থানার ওসিকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন, ‘এ দুজনের ভূ-সম্পত্তি না থাকায় যাচাই (ভেরিফিকেশন রুলস) বা তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’ পুলিশের এ সিদ্ধান্ত দুজনকে জানিয়ে দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দেন তৎকালীন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল।
বর্তমানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত পুলিশ সদস্য কলিন্স রোজারিও বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশের চাকরির ক্ষেত্রে ভূ-সম্পত্তি বাবা ও মায়ের নামে থাকতে হবে এমনটাই বাহিনীর রুলস। আমি বংশপরম্পরায় চা-বাগানে বাস করছি। আমার স্কুল-কলেজে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে চা-বাগানের ঠিকানাই দেওয়া আছে। আমাদের নিজস্ব জমিজমা নেই। তবে স্থায়ী নাগরিক হিসেবে আমরা দুজনই (কলিন্স ও রাজু) যথেষ্ট প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছি পুলিশের আইজি স্যারের বরাবরে। পরে আইজি স্যারের নির্দেশে আমরা দুজনের চাকরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৭ সালে সিলেটে যোগদান করি। আমরা দুজনেই মেট্রোপলিটন পুলিশে আছি।’
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমার জানা মতে, পুলিশে এরকম একটি বিধান ছিল। জেলা কোটার বিষয়ে যেমন, বাপ-দাদার জমি কোথায় সেগুলো তারা দেখে থাকে। এটা তাদের প্রচলিত নিয়ম ছিল, সেটা হয়তো তারা অনুসরণ করছে।’
অতীতে এরকম ঘটনার অবতারণা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়ে আমরা আগেই নির্দেশনা দিয়েছিলাম। কিন্তু কেন যে এটা আবারও তারা করলো, তা আমি জানি না। তারা হয়তো এটা খেয়াল করেনি। এটা কেন হয়েছে সেটা সব দেখে ব্যবস্থা নেবো।’
আইনে যা বলা আছে
সংবিধানের ২১, ২৯, ১৩৩ ও ১৩৬ অনুচ্ছেদের নির্দেশনার আলোকে প্রণীত ওই আইনে প্রজাতন্ত্রে নিয়োগের বিধানাবলি যুক্ত রয়েছে।
আইনের ৭ ধারায় সরকারের কর্মবিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিধানের সঙ্গে ‘বাংলাদেশের নাগরিক নয়, এমন কোনও ব্যক্তিকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ করা যাবে না’ বিধানটি যুক্ত রয়েছে। আইনে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে ভূ-সম্পত্তি থাকা বা স্থায়ী নাগরিক হওয়ার বিষয়ে কোনও কিছুই বলা নেই।