২৩ জানুয়ারি থেকে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের বাইক্কাবিলে দুইদিনব্যাপী পাখি গণনা শুরু হয়। চলতি বছরে বাইক্কাবিল অভয়াশ্রমে পরিযায়ী ও দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৮ হাজার ৮৩২টি জলচর পাখি গণনা করা হয়েছে। আগের বছর ৬ হাজার ৯৯১টি জলচর পাখি বাইক্কা বিলে অবস্থান করেছিল বলেও জরিপ সূত্রে জানা গেছে। টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই পাখিশুমারিটি পরিচালনা করেন শ্রীমঙ্গল ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল)।
এশিয়ান ওয়াটার বার্ড সেনসাস সাউথ এশিয়ার আওতায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ভলেন্টিয়ারদের অংশগ্রহণে প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্য দুই সপ্তাহের মধ্যে এ পাখিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ শুমারি হয়। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর, কুলাউড়ার হাকালুকি, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, উপকূলীয় অঞ্চলের নিঝুম দ্বীপ, উপকূলীয় দ্বীপ সোনাদিয়া, সন্দ্বীপসহ অনেকগুলো স্থানে একইসঙ্গে এ পাখিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাইল হাওর, সোনাদিয়া, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ক্রেল প্রকল্পের অর্থায়নে এই পাখিশুমারি করা হয়। এই পাখিশুমারিটি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্যদের দ্বারা করা হয়ে থাকে এবং এই ক্লাব সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে।
২০০৪ সালে বাইক্কাবিল বার্ড ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর ওই বছরের জুলাই মাস থেকে পাখিশুমারির আওতায় নিয়ে আসা হয়। ওই বছরে মোট ২৯৬টি জলচর পাখি বাইক্কাবিলে আসে। জলাভূমির সূচক অনুযায়ী শুধুমাত্র জলচর পাখিকেই এ গণনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
শ্রীমঙ্গল ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল) রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর মাজহারুল ইসলাম ইসলাম জাহাঙ্গীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ক্রেল এর সিনিয়র কো-ম্যানেজমেন্ট এডভাইজার পল থম্পসন এ জরিপ করেছেন।
আর ২২ বছরে বছরে পাখির সংখ্যার তারতম্য সম্পর্কে পল থম্পসন জানান, বাইক্কাবিল অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পর সেখানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করা হয়। এরমধ্যে হিজল করচের বাগান, গাছ লাগানো, খনন কাজ ইত্যাদি অন্যতম। এ কাজগুলো সাধারণত শুকনো মৌসুমে করা হয়। সেসময়েই বিলে পাখি আসা শুরু হয়। তখন কাজ শুরুর কারণে পাখি কম আসে। কাজ শেষ হওয়ার পর পাখিরা আসে। পরিযায়ী পাখিরা আসার আগে আবাসস্থলটি নিরাপদ কিনা সেটি বিবেচনায় রাখে। পাখি যখন আসে তখন জলাভূমিতে মাছ ধরার মৌসুম। ফলে সেখানে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাই শিকার হয়ে যাওয়ার ভয়ে পাখিরা আসে না।
পল থম্পসন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চলতি বছরে বাইক্কাবিলে বালিহাঁসের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দেশীয় পাখির মধ্যে এ বছর ২০০ বালিহাঁসের দেখা মিলেছে।
আর খয়রা কাস্তে চরা নামের পরিযায়ী জলচর পাখিটি ৪/৫ বছর আগে বাংলাদেশে দেখা না গেলেও এ বছর ৮৬টি পাখির দেখা মিলেছে। তিলা লালসা পাখির দেখা মিলেছে ৬৬৪টি। বাইক্কাবিলে এ পাখিটি এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে। গেওয়ালা বাটান পাখি ১ হাজার ৮৮টি পাওয়া গেছে।
/এফএস/টিএন/ আপ-এসএম