এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ২ মামলার বিচার শুরু

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে ধর্ষণের সময় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এছাড়া ধর্ষণ মামলা একই আদালতে চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক।  

বুধবার (১১ মে) দুপুরে শুনানি শেষে তিনি এই আদেশ দেন। এর আগে ধর্ষণ মামলার সব আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী জানান, ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণের সময় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের করা ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। সেই সঙ্গে একই আদালতে ধর্ষণের মামলাসহ দুটি মামলা চলার আদেশ দেন বিচারক।

তিনি আরও জানান, এখন দুই মামলার একসঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। তবে সাক্ষ্যগ্রহণ কবে শুরু হবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক আদেশ দেননি বিচারক।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরের ২৪ বছর বয়সী এক যুবক তার নববধূকে নিয়ে প্রাইভেটকারে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে যান। এর আগে শাহপরান (রহ.) মাজারও ঘুরে আসেন তারা। সন্ধ্যার পরে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে তারা থামেন। এ সময় কয়েক যুবক ওই স্বামী ও তার স্ত্রীকে ঘিরে ধরে। এক পর্যায়ে প্রাইভেটকারসহ তাদেরকে জোরপূর্বক কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনায় রাতেই ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা করেন।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। কিন্তু হাইকোর্ট আলোচিত এ ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলা একই আদালতে বিচার করার জন্য আদেশ দিলে, ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।