ধর্ষণ মামলায় ৩ জন কারাগারে, শোভাযাত্রা করে কেক কাটেন শিপলু 

সিলেটে রক্ত দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে হোটেলে আটকে রেখে দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মহানগরের জালালাবাদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে পৃথক মামলা করেন ভুক্তভোগী দুই তরুণী। তবে আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের কাছে তারা লাপাত্তা রয়েছে। অথচ আলোচিত এই ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে পিছে ফেলে সফলতা দেখিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৯) সদস্যরা। র‌্যাবের অভিযানে ধরা পড়তে হয় ছাত্রদল ক্যাডার নাবিল রাজা, ঘটনার নেপথ্যে থাকা তানিয়াকে। 

এছাড়া মামলার অপর আসামি ছাত্রদল নেতা মোহামিন রহমান রাহিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে রাহি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। ধর্ষণ মামলায় এজাহারভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে তিন জন কারাগারে থাকলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন অন্য আসামিরা। 

এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনা জন্ম দিয়েছেন পুলিশের কাছে পলাতক থাকা ধর্ষণ মামলার আসামি যুবলীগ কর্মী রানা আহমদ শিপলুকে নিয়ে। পলাতক থেকেও শিপলু সম্প্রতি তার অনুসারীদের নিয়ে শেখ রাসেলের ৫৯তম জন্মদিন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও কেক কাটার অনুষ্ঠান পালন করেছেন। জালালাবাদ থানা এলাকায় শিপলু এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পুলিশের কাছে পলাতক থেকেও প্রকাশ্যে শিপলুর এমন কর্মকাণ্ডে সিলেটজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জালালাবাদ থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে। এজন্য পুলিশের টিম মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিরা লাপাত্তা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 

তবে ধর্ষণ মামলার আসামি রানা আহমদ শিপলু মদিনা মার্কেট এলাকায় অনুসারীদের নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন- এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রানা জামিন নেয়নি। তাকে আমরা ধরার জন্য খুঁজছি। সে পলাতক রয়েছে। আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
 
জানা যায়, ছাত্রদল নেতা রাহি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার নগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গত ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টা থেকে ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত টানা ২২ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এছাড়া ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে বিউটি পার্লারের নারীকর্মী তানজিনা আক্তার তানিয়াকে (২৫) শিবগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে আসামিদের সহায়তার অভিযোগ আনা হয় মামলায়। তিনি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়সিদ্দি গ্রামের দবির মিয়ার মেয়ে। তানিয়া নগরের শাহজালাল উপশহরে বসবাস করতেন। ওই এলাকার স্নেহা বিউটি পার্লারের একজন কর্মী ছিলেন তিনি। পরে গত ১৩ অক্টোবর ছাত্রদল নেতা নাবিল রাজা চৌধুরীকে (৩৫) নগরের একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। নাবিল সুনামগঞ্জ জেলার সদর থানার হরিনাপাটি গ্রামের ফরহাদ রাজা চৌধুরীর ছেলে। তিনি বর্তমানে সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ৪৭/১০ নম্বর বাসার বাসিন্দা।

নীল পাঞ্জাবি পরিহিত শিপলু অনুসারীদের নিয়ে কেক কাটছেনমামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট দিবাগত রাতে নগরীর পাঠানটুলার জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশের গ্রিন হিল আবাসিক হোটেলের দুটি কক্ষে দুই তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।  রাত সাড়ে ১১টা থেকে একে একে ১০-১২ জন যুবক তাদের ধর্ষণ করে। এছাড়া ভিকটিম এক তরুণীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন (২৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ভিকটিম দুই তরুণীকে এক কক্ষে নিয়ে তাদের কাছ থেকে ‘ধর্ষণের কোনও ঘটনা ঘটেনি’ মর্মে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় এবং এসব কথা মোবাইল ফোনে ভিডিও করে তাদের ছেড়ে দেন তানিয়া ও তার সহযোগীরা। 

ঘটনার পর দুই ভিকটিম তরুণী থানায় পৃথক মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন শাহজালাল উপশহর এলাকার স্নেহা বিউটি পার্লারের কর্মী তানজিনা আক্তার তানিয়া (২৫), সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার নগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মোহাইমিন রহমান রাহি (৩৩), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার গোবিন্দগঞ্জ গ্রামের মৃত তহুর আলীর ছেলে জুবেল (৩১), সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার আলী আকবরের ছেলে রানা আহমদ শিপলু ওরফে শিপলু (৩৫), সুনামগঞ্জ সদর থানার হরিনাপাট গ্রামের ফরহাদ রাজা চৌধুরীর ছেলে নাবিল রাজা চৌধুরী (৩৫) ও সুজনসহ (৩৫) অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন।