সিলেটের প্রেক্ষাপটে আমরা নির্বাচনে যাবো: মেয়র আরিফুল

সিলেট সিটি করপোরেশনের দিনক্ষণ ইতিমধ্যে নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন মেয়র প্রার্থীরা। দিনরাত সমানতালে পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে বর্তমান সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত থাকায় এই সিটির নির্বাচনে ‘নীরব’ ভূমিকায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি গত দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রার্থী হওয়া নিয়ে সিলেটে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই সিটিতে দুইবার মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় জনপ্রিয়তা, অভিজ্ঞতায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। দলীয়ভাবে নির্বাচন বিষয়ে বিএনপি এখন পর্যন্ত ‘অনড়’ থাকলেও সবকিছু ছাপিয়ে সোমবার (১ মে) সিলেটে জেলা ও মহানগর শ্রমিকদলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন মেয়র আরিফ। শোডাউন শেষে তিনি তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন ও ইভিএমের সমালোচনা করলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আভাস দেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নগরবাসীর সংকটে ও দুঃসময়ে আমি সবসময় পাশে ছিলাম। সে জন্য পরপর দুইবার আমাকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করেছেন ভোটাররা। এ জন্য নগরবাসীর কাছে চির কৃতজ্ঞ। আমি বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন থেকে জড়িত। এ জন্য দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে চলতে হবে। এই সরকারের অধীনে দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তবে আমাকে একটি সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে, সেটা কী সিগন্যাল তা আমি আগামী শনিবার (২০ মে) রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশে খোলাসা করবো। ওইদিন রেজিস্ট্রারি মাঠে একটি সভার আয়োজন করেছি। ওই দিন আমি আমার প্রাণপ্রিয় নগরবাসীর সামনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চাই। তবে সিলেটের প্রেক্ষাপটে আমরা নির্বাচনে যাবো।’

ariful1

মেয়র আরিফ আরও বলেন, ‘সিলেটের মানুষ অধিকার আদায়ে সবসময় সোচ্চার। তারা জানে কীভাবে তাদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়। আন্দোলন করে রেফারেন্ডামের (গণভোট) মাধ্যমে পূর্ব বাংলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সিলেটের মানুষ। সিলেটের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মহানগরীর ভেতরে প্রশাসনিক রদবদল চলছে। সিলেটের মাটিতে ওলি-আউলিয়ারা ঘুমিয়ে আছেন, এটি আধ্যাত্মিক নগরী। এই নগরীতে অন্যায় করে কেউ অতীতে পার পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না।’

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সিসিকের চতুর্থ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ধানের শীষে আরিফের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯২ হাজার ৫৯৩, বিপরীতে কামরান নৌকা প্রতীকে পেয়েছিলেন ৮৬ হাজার ৩৯৭ ভোট। এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় সিসিকের তৃতীয় নির্বাচন। ওই নির্বাচনে প্রথমবার অংশ গ্রহণ করেই আরিফুল হক চৌধুরী ৩৫ হাজার ১০০ ভোটের ব্যবধানে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করেছিলেন। নির্বাচনে সেবার নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা আরিফ পেয়েছিলেন এখন লাখ সাত হাজার ৩৩০ ভোট, বিপরীতে আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছিলেন ৭২ হাজার ২৩০ ভোট।

এদিকে, মে দিবসের সভায় মেয়র আরিফ বলেন, ‘সিটিতে একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। যেখানে জাতীয়ভাবে সারা দেশে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, সেখানে আবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম দেওয়া হয়েছে। এই ইভিএম হচ্ছে, তাদের মেকানিজমের অন্যতম বিষয়। যে নির্বাচনে আপনারা আপনাদের পছন্দের লোকদের ভোট দেবেন সেই ভোট অন্য পাত্রে চলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা দেখতে পাই, এই মহানগরীর জনগণ ইভিএমের সঙ্গে কোনোভাবেই পরিচিত নন। কাজেই এই নির্বাচন কমিশনকে বলবো, যদি তারা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন করতে চায়, জনগণের বিরুদ্ধে কিছু হলে এর দায় নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন তাদের চোখ থাকতে যদি অন্ধ হয়ে যায় তবে কিছু বলার নেই। যে ইভিএম প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সেই ইভিএম দিয়ে সিটি নির্বাচন মানি না। সিটি নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। ইভিএমে কোনও ভোট মানি না।’

এই সিটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামানকে উদ্দেশ করে আরিফুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘সিলেট মহানগরীর রাজনৈতিক নেতারা নেতৃত্ব দিতে জানে, বাইরে থেকে কাউকে ভাড়া করে নিয়ে এসে মহানগরীর মানুষকে দাস বানানো মানবে না নগরীর মানুষ। গত ১০ বছর নগরবাসীর সেবা করেছি।’