সিলেটের মানুষ নির্বাচন বর্জন করেছেন বলে দাবি করেছেন সিটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হাসান। বুধবার (২১) রাতে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
এর আগে গত ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচনে দলটির মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় রাতেই মাহমুদুল হাসান সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। মাহমুদুল সংগঠনের সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।
বিবৃতিতে মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সিলেট নগরের সচেতন জনগণ অথর্ব, দলান্ধ ও অযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনের নির্বাচন বর্জন করেছে। শুধু কাউন্সিলর প্রার্থীদের কিছু ভোটার কেন্দ্রে গেছেন। একটি সংগঠনের মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা এবং পরে এ নিয়ে সিইসির জঘন্য মন্তব্য বলে দেয়, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।’
মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এমনটা আশা করা যায় না। বরং ভোটাররা নিজেদের ওপর হামলার আশঙ্কায় ভীত থাকেন। আমরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় সিলেটের সচেতন জনগণও নির্বাচন বর্জন করেছেন। এতে প্রমাণিত হয়েছে জনগণ আমাদের সঙ্গে আছেন। আমার কথায় সাড়া দিয়ে সিলেট সিটি নির্বাচন বর্জন করায় সিলেটের আপামর জনসাধারণকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
বুধবার সিলেট সিটিতে পঞ্চমবারের মতো ভোট হয়। এদিকে সিসিক নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের হাতপাখা প্রতীকে ভোট পড়েছে ১২ হাজার ৭৯৪টি। ১৯০টি কেন্দ্রে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল পেয়েছেন ৫০ হাজার ৮৬২ ভোট। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ৬৫ হাজার ৫১৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
এছাড়া মেয়র পদে স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোহাম্মদ শাহ জাহান মিয়া (বাস) ২৯ হাজার ৬৮৮ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্র আব্দুল হানিফ কুটু (ঘোড়া) ৪ হাজার ২৯৬ ভোট, মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন রিমন (ক্রিকেট ব্যাট) ২ হাজার ৬৪৮ ভোট, স্বতন্ত্র জহিরুল আলম (গোলাপ ফুল) ৩ হাজার ৪০৫ ভোট ও স্বতন্ত্র মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা (হরিণ) ২ হাজার ৯৫৯ ভোট পেয়েছেন।