শাহ আব্দুল করিম পরিষদের উদ্যোগে শাহ নুর জালালের সভাপতিত্বে ও দিরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি শামছুল ইসলাম সর্দারের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুয়েতের সাবেক রাষ্ট্রদুত মেজর জেনারেল আহসার উদ্দিন, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন, করিম গবেষক ও কবি শুভেন্দু ইমাম, কবি ও লোকসাহিত্য গবেষক ড. মোস্তাক আহমেদ দীন,তাড়ল ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক, কবি তুষার কর,সাংবাদিক টিপু সুলতান,একে কুদরত পাশা প্রমুখ।
আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, কোনও বাউল তার রচিত গানের সংখ্যা দিয়ে বাউল সম্রাট হতে পারেন না। গানের গুণগতমান দিয়ে বাউল সম্রাট হতে হয়।বাউল শাহ আবদুল করিমের সৃষ্টিকর্মের মধ্যে আমরা তা দেখতে পাই। তার এই সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে তিনি ভক্তদের মন জয় করেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, শাহ আবদুল করিমের গান ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে কিছু সংখ্যক লোক কোটি কোটি টাকা ব্যবসা করছে, কিন্তু তার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ করতে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। শাহ আবদুল করিম বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। আজ সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় তিলে তিলে নষ্ট হচ্ছে। অথচ স্ব-ঘোষিত করিম গবেষকগণ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যমে তার জীবন দর্শনকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, বাউল সম্রাট করিমের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য যাদুঘর নির্মাণ ও উজানধল গ্রামের সড়ক থেকে তার বাড়ি যাওয়ার সড়কটি সংস্কার করা হবে। এজন্য দিরাই উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
আলোচনা শেষে স্থানীয় শিল্পীরা শাহ আবদুল করিমের গান পরিবেশন করেন। বাউল শাহ নূর জালাল, আবদুর রহমান, রণেশ ঠাকুর, দুখু মিয়াসহ স্থানীয় বাউলরা আবদুল করিমের একাধিক গান পরিবেশন করেন। এছাড়া রাতে মঞ্চে গান পরিবেশন করেন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বাউল শিল্পীরা। ভোররাত পর্যন্ত বাউল গানের আসর চলবে। রবিবার ভোরে লোক উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
/এআর/